‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে সম্মানিত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, বড় স্বীকৃতি অভিনেতার

0


চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয়,পরিশ্রম এবং অসামান্য জনপ্রিয়তার মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।এবার সেই দীর্ঘ অভিনয় জীবনের আরও এক গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল বাংলা। সোমবার দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে সম্মানিত হলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।রাষ্ট্রপতি ভবনের গণতন্ত্র মণ্ডপে আয়োজিত ‘পদ্ম’ পুরস্কার ২০২৬ সালের প্রথম ‘সিভিল ইনভেস্টিচার’ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ বছর মোট ১৩১টি ‘পদ্ম’ সম্মানের ঘোষণা করা হয়েছে।তার মধ্যে রয়েছে ৫টি ‘পদ্মবিভূষণ’,১৩টি ‘পদ্মভূষণ’ এবং ১১৩টি ‘পদ্মশ্রী’।আর সেই তালিকাতেই জায়গা করে নেন টলিউডের ‘জেষ্ঠ্যপুত্র’ ওরফে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।এদিন অনুষ্ঠানে একেবারে সাবেকি বাঙালি সাজে ধরা দেন প্রসেনজিৎ।সাদা ধুতি-পাঞ্জাবিতে তাঁর উপস্থিতি যেন আরও আলাদা মাত্রা এনে দেয় এই বিশেষ মুহূর্তে। ডিজাইনার অভিষেক রায়ের তৈরি পোশাকে মঞ্চে উঠে তিনি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ৪০০-র বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা।১৯৬৮ সালে বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় তাঁর। তারপর ধীরে ধীরে বাংলা ছবির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।‘মনের মানুষ’,‘চোখের বালি’,’কাকাবাবু’,’বাইশে শ্রাবণ’,‘অটোগ্রাফ’,‘জাতিস্মর’-এর মতো একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন অভিনেতা।এত বছর পরেও তাঁর জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি।বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও পরিণত হয়েছে তাঁর অভিনয়।

‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে সম্মানিত হওয়ার পর তিনি বলেন,“এই স্বীকৃতি তাঁদের সকলের,যাঁরা আমার দীর্ঘ অভিনয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থেকেছেন।পরিচালক, প্রযোজক, সহ-অভিনেতা,টেকনিশিয়ান এবং সবচেয়ে বেশি দর্শক, সকলের ভালোবাসা ছাড়া এই পথচলা সম্ভব হত না।” একইসঙ্গে নিজের প্রয়াত মায়ের উদ্দেশেও এই সম্মান উৎসর্গ করেন তিনি।তাঁর কথায়,“আমাকে এই সম্মান দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনেক ধন্যবাদ।আমার কাছে এই সম্মান অত্যন্ত গর্বের।কারণ,আমি শুধুমাত্র বাংলা সিনেমায় কাজ করে এই সম্মান পেয়েছি।এটা সত্যিই গর্বের।”তিনি মনে করেন এই পুরস্কার শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়,বরং বাংলা চলচ্চিত্র জগতের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম।অভিনয়ের মাধ্যমে যিনি বছরের পর বছর ধরে দর্শকের মন জয় করে এসেছেন,তাঁর সাফল্যের মুকুটে এবার যুক্ত হল আরও এক উজ্জ্বল পালক।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *