বাড়ি থেকে মিলল সুইসাইড নোট, অনীক দত্তের রহস্যমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা টলিপাড়া

0



টলিপাড়ায় যেন নেমে এসেছে কালো ছায়া।রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর আবার আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ টলিউড।বুধবার দুপুরে প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর ভাবে আহত হন পরিচালক অনীক দত্ত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দানা বাঁধছে একের পর এক রহস্য।দুপুরবেলা আচমকা তিনি ছাদে কেন গিয়েছিলেন? কীভাবেই বা চারতলা থেকে নিচে পড়লেন তিনি? ঘটনার পর থেকেই একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে।ইতিমধ্যেই গড়িয়াহাট থানার পুলিশ এবং হোমিসাইড শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্তে এল নতুন মোড়। পরিচালকের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট।তবে পরিচালক ঠিক কী লিখেছিলেন সেই চিঠিতে ?


পুলিশ সূত্রে খবর, অনীক দত্তের সেই সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে – “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” তবে ওই হাতের লেখা সত্যিই অনীক দত্তর কি না, তা খতিয়ে দেখতে চিঠিটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিক অনুমানে,এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই দাবি পুলিশের।তবে একজন সফল পরিচালককে কেন এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সেই উত্তর এখনও অজানা।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ছুটে যান বহু তারকা থেকে নেতা-নেত্রী।উপস্থিত ছিলেন অরিন্দম শীল, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, জীতু কমল , শ্রীলেখা মিত্র, রুদ্রনীল ঘোষ, মহম্মদ সেলিম, শতরুপ ঘোষ, দীপ্সিতা ধর ,সুদীপ্তা চক্রবর্তী, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়,  উৎসব মুখোপাধ্যায়, সুদীপা চট্টোপাধ্যায় , মানসী সিনহা, দেবলীনা দত্ত -সহ অনেকে।পরিচালকের এই খবর যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীরা।শোক প্রকাশ করেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ।তিনি বলেন, “এটা কারও জানার কথা নয়।কেউ এটা আশা করেননি।তবে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তিনি হঠাৎ করেই বলেছিলেন যে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মুখ্যমন্ত্রীর এতগুলো ছবি। তাঁর এই কথায় অনেক স্বনামধন্য পরিচালকেরাও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি বলেছিলেন অনেকে মাথা নিচু করে মার্সিডিজ চড়ে আবার অনেকে মাথা উঁচু করে মারুতি।আমি সারাজীবন মহ উঁচু করে মারুতি চড়বো।এত চাপ ওর মধ্যে দিয়ে গিয়েছে কিন্তু কখনও তিনি আপোস করেননি।শেষ অবধি তিনি মাথা উঁচু করে বেঁচেছেন।অনীক দত্ত সত্যিই অপরাজিত ছিলেন।”



অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত বলেন,”শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন সেটাও জানি। বহুদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন সবটাই জানতাম।কিন্তু হঠাৎ করে এই ঘটনা ঘটবে না কেউ বুঝতে পারিনি।এটা অবিশ্বাস্য, ভয়ঙ্কর লাগছে।এই সুইসাইডের ঘটনা যদি সত্যি হয় থাকে,তাহলে এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির লজ্জা।” পরিচালক মানসী সিনহা বলেন,”নতুন ছবির কাজ করার কথা চলছিল।জন্মদিনের দিন আমার অনীকের সঙ্গে কথাও হয়েছে।হঠাৎ করে এইরকম ঘটনা যে ঘটবে তা বুঝতে পারিনি।অনীক অনেক শক্ত মনের। নানারকম সমস্যা সবার জীবনে চলে কিন্তু তাঁর জন্য যে এই সিদ্ধান্ত নেবে তা বুঝতে পারিনি।”রুদ্রনীল ঘোষ বলেন,” এই ক্ষতি বর্ণনা করা যায় না।যে রাজকীয় মেজাজে মাথা না নামিয়ে থাকতেন সেই রাজার বেশেই যেন তাঁর বিদায় হয় সেই আশাই করছি। তাঁর কাজ তিনি রেখে গিয়েছেন মানুষের মধ্যে।তিনি সত্যিই অপরাজিত।”

বহুদিন ধরেই ফুসফুস ও স্নায়ুর সমস্যার পাশাপাশি মানসিক অবসাদও নাকি ঘিরে ধরেছিল পরিচালককে।উল্লেখ্য,’ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছন অনীক দত্ত।ভৌতিক গল্পের আড়ালে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যঙ্গ মিশিয়ে বাংলা সিনেমায় এক অন্যধারার ভাষা তৈরি করেছিলেন তিনি। পরে ‘অপরাজিত’-র মতো ছবিতেও তাঁর নির্মাণশৈলী প্রশংসিত হয়। এছাড়াও ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’- র মতো ছবি উপহার দেন দর্শককে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *