৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে কঙ্গোর প্রত্যাবর্তন, ইতিহাসে নতুন অধ্যায় আফ্রিকার এই দেশের

0


বিশ্বকাপ-যে মঞ্চে ওঠার স্বপ্ন দেখে প্রতিটি দেশ, প্রতিটি ফুটবলার। সেই স্বপ্নই যেন অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বুকের ভেতর আগলে রেখেছিল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান। দীর্ঘ ৫২ বছর পর আবারও ফুটবলের মহাযজ্ঞে ফিরছে কঙ্গো, আর সেই ফেরাটা যেন এক আবেগে ভাসানো ইতিহাস।
মেক্সিকোর এস্তাদিও গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করে কঙ্গো। ১৯৭৪ সালে ‘জাইরে’ নামে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এই প্রথম আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরছে তারা-যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা।


ম্যাচটা ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। কঙ্গোর হয়ে সেন্দ্রিক বাকাম্বুর দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে গেলে হতাশা আরও ঘনীভূত হয়। তবে লড়াই থেমে থাকেনি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, আর সেখানেই রচিত হয় ইতিহাস।
অতিরিক্ত সময়ের ১০০তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল জালে জড়িয়ে দেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন ডিফেন্ডার অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা কঙ্গো। গোলটি নিয়ে সামান্য সংশয় তৈরি হলেও ভিডিও সহকারী রেফারি নিশ্চিত করেন, কোনো হ্যান্ডবল হয়নি। বৈধ গোল, আর সেই গোলেই স্বপ্নপূরণ। পূর্ব কঙ্গোর সংঘাতপ্রবণ শহর বুনিয়ায় জন্ম নেওয়া তুয়ানজেবে যেন নিজের জীবনের গল্পটাকেই রূপকথায় পরিণত করলেন। ম্যাচ শেষে আবেগঘন গলায় তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য জয়সূচক গোল করা প্রতিটা খেলোয়াড়ের স্বপ্ন-আজ আমি গর্বিত।’ তার এই একটা গোল শুধু একটি ম্যাচ জেতায়নি, জিতিয়েছে একটি জাতির দীর্ঘ প্রতীক্ষার লড়াই।
অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্ন দেখেছিল জামাইকাও। সেমিফাইনালে নিউ ক্যালেডোনিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও কঙ্গোর কাছে স্বপ্নভঙ্গই হয়।  কঙ্গোর এই যাত্রাপথও সহজ ছিল না। বাছাইপর্বে নাইজেরিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে এসেছে তারা। সেই লড়াই, সেই অধ্যবসায়েরই পরিণতি এই সাফল্য।
২০২৬ বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপে পড়েছে কঙ্গো। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে পর্তুগাল, কলম্বিয়া এবং উজবেকিস্তান। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালের বিপক্ষেই হবে তাদের প্রথম ম্যাচ। কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, কিন্তু ৫২ বছরের অপেক্ষা ভেঙে আসা এই দলটির কাছে অসম্ভব শব্দটি যেন আর ততটা আর ভয়ের নয়। এই জয় শুধু একটি দলের নয়, এটি এক জাতির আবেগ, সংগ্রাম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। কঙ্গো দেখিয়ে দিল—স্বপ্ন কখনও মরে না, শুধু সময়ের অপেক্ষা করে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *