২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় দিল্লির, ঘরের মাঠেই হোঁচট গোয়েঙ্কার লখনউয়ের
লখনউয়ের একনা স্টেডিয়ামে নতুন মরসুমের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল সঞ্জীব গোয়েঙ্কার লখনউ সুপার জায়ান্টস। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৪ ওভারে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় ঋষভ পন্থের দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়লেও, সমীর রিজভী ও ট্রিস্টান স্টাবসের দুর্দান্ত জুটিতে ভর করে ১৭.১ ওভারেই ৪ উইকেটে ১৪৫ রান তুলে ৬ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস।

১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কার্যত খাদের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল দিল্লি। প্রথম বলেই কেএল রাহুলকে শূন্য রানে ফিরিয়ে লখনউকে স্বপ্ন দেখান মহম্মদ শামি। এরপর পাথুম নিশঙ্কা (১), নীতীশ রানা (১৫) এবং অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলও দ্রুত আউট হয়ে গেলে ম্যাচ পুরোপুরি লখনউয়ের দখলে চলে যায়।
কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সমীর রিজভী ও ট্রিস্টান স্টাবস। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছেদ্য ১১৯ রানের জুটি লখনউয়ের হাতছাড়া করে দেয় নিশ্চিত জয়। রিজভী ৪৭ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা। অন্যদিকে স্টাবস ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন।

এর আগে লখনউয়ের ইনিংসেও ছিল ভাঙাগড়ার ছবি। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ মাত্র ৭ রান করে বেমক্কা রানআউট হয়ে ফেরেন। মিডল অর্ডারে এডেন মার্করাম (১১), নিকোলাস পুরান (৮) ও আয়ুষ বাদোনি (০) সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। মিচেল মার্শ (৩৫) ও আব্দুল সামাদ (৩৬) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দিতে পারেননি। শাহবাজ আহমেদ ১৫ রানে অপরাজিত থাকলেও লোয়ার অর্ডার থেকে সমর্থন মেলেনি।

দিল্লির হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল লুঙ্গি এনগিডি (৩/২৭) ও টি নটরাজন (৩/২৯)। কুলদীপ যাদব নেন ২টি উইকেট।
লখনউয়ের বোলাররা শুরুতে দাপট দেখালেও মিডল ওভারে রিজভী–স্টাবস জুটিকে ভাঙতে ব্যর্থ হন। প্রিন্স যাদব ২টি উইকেট নিলেও তা যথেষ্ট ছিল না। শামি ও মহসিন খানও একটি করে উইকেট পেলেও ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেননি।
চেনা মাঠ, চেনা সমর্থক—কিছুই কাজে এল না লখনউয়ের। ব্যাটিং ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত তাদের হার ডেকে আনল। অন্যদিকে, বিপর্যয় কাটিয়ে এই জয় দিল্লি ক্যাপিটালসের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
