পঞ্চায়েতে সাড়ে ৬ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্তব্ধ… ঘরে নয়, মাঠে নেমেই পরিস্থিতি দেখবেন দিলীপ ঘোষ! 

0



শপথ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাজে নেমে পড়লেন দিলীপ ঘোষ। নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর দায়িত্ব পেয়েই, সোমবার সরাসরি মৃত্তিকা ভবনে পৌঁছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক সেরে ফেললেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দায়িত্ব হাতে পেয়েই তাঁর বার্তা স্পষ্ট-পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় গতি ফেরাতে হবে, বন্ধ করতে হবে গাফিলতি, আর উন্নয়নের কাজে চাই পর্যাপ্ত কর্মী ও অর্থ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি বিপণনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলাবেন তিনি। আর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম দিনেই প্রশাসনিক সমস্যার জায়গাগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা করলেন বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতা। মৃত্তিকা ভবনে পৌঁছে আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েত দফতর সম্ভবত সরকারের সবচেয়ে বড় দফতর। এখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ কাজ করেন, সম্ভাবনাও সবচেয়ে বেশি। আজ অফিসারদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বাজেট, পরিকল্পনা, কোথায় সমস্যা রয়েছে-সব বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে’।
প্রথম বৈঠকেই পঞ্চায়েত ব্যবস্থার একাধিক দুর্বল দিক সামনে এসেছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে কর্মী সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নতুন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘অনেক জায়গায় রিক্রুটমেন্টই হয়নি। এমন পঞ্চায়েত আছে যেখানে কোনও অফিসার নেই। পরিকল্পনা করার লোক নেই, কাজ বাস্তবায়নের লোক নেই। ম্যানপাওয়ার না থাকলে কাজ হবে কী করে’?
দিলীপ ঘোষ জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৬ হাজার নিয়োগের প্রক্রিয়া অনুমোদিত রয়েছে। তবে সেই নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজন অর্থ বরাদ্দেরও। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্তরেও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা ধীরে ধীরে আসবে এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিয়োগ প্রক্রিয়াও এগোবে। নতুন মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি শুধু দফতরে বসে প্রশাসন চালাতে চান না। বরং সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চান।দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমি নিজেও ফিল্ডে যাব, জেলায় যাব, অফিসারদের সঙ্গে কথা বলব। ফলোআপ মনিটরিং হচ্ছে কি না, সেটাও দেখতে হবে।’ একইসঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অতীত নিয়েও কটাক্ষ করতে শোনা যায় তাঁকে। তাঁর মন্তব্য, ‘পঞ্চায়েতে কী হয় সেটা আপনারাও জানেন। অনেক রকম ড্রামা হয়। সেগুলো কেন হয়, কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেই রাস্তা বের করতে হবে।’

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *