কেদারনাথ-বদ্রীনাথে দুর্যোগের ছায়া!চারধাম যাত্রায় কমলা সতর্কতা আবহাওয়া দফতরের?

0



হিমালয়ের কোলে দেবদর্শনের টান প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ ভক্তকে টেনে নিয়ে যায় উত্তরাখণ্ডের চারধামে। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, বরফঢাকা শৃঙ্গ আর আধ্যাত্মিক আবহ— সব মিলিয়ে কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রীর যাত্রা শুধুই ধর্মীয় সফর নয়, অনেকের কাছে তা জীবনের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই পুণ্যযাত্রার পথেই এবার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে প্রকৃতির রুদ্ররূপ।

চারধামকে কেন্দ্র করেই বড় সতর্কবার্তা ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের।১২ ও ১৩ মে উত্তরাখণ্ডের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ, শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। ফলে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ চারধামের পাহাড়ি  রাস্তা ঘিরে। হৃষিকেশ থেকে রুদ্রপ্রয়াগ হয়ে কেদারনাথ, জোশীমঠ থেকে বদ্রীনাথ, উত্তরকাশী থেকে গঙ্গোত্রী এবং বরকোট থেকে যমুনোত্রী যাওয়ার পথে যাত্রীদের সম্ভাব্য দেরি কিংবা রুট পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়বে ভূমিধসের আশঙ্কাও। বিশেষ করে উত্তরকাশী, রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলি জেলার ৪,৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতার এলাকাগুলিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি ঢাল ও ধসপ্রবণ রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন জেলায় রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া তহবিলকে (এসডিআরএফ) হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

চারধাম যাত্রা ২০২৬: ভ্রমণ সতর্কতা

আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, জারি হওয়া কমলা সতর্কতার অর্থ হল আগামী কয়েক দিনে প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমকানো, শিলাবৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যেতে পারে, যার ফলে ধস নামার ঝুঁকি আরও বাড়বে। হিমালয় অঞ্চলে বর্ষা শুরুর আগের এই সময়টিতে ভূমিধস প্রায়শই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চারধাম যাত্রাপথে যাঁরা সফরে যাচ্ছেন, বিশেষ করে ঋষিকেশ থেকে রুদ্রপ্রয়াগ হয়ে কেদারনাথ,জোশীমঠ থেকে বদ্রীনাথ,উত্তরকাশী থেকে গঙ্গোত্রী এবং বরকোট থেকে যমুনোত্রী যাওয়ার পথে তাঁদের সম্ভাব্য দেরি বা যাত্রাপথে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ি ট্রেকিং ও মাউন্টেনিয়ারিং অভিযানেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

চারধাম যাত্রার মাঝে খারাপ আবহাওয়ার আশঙ্কার জেরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশেষ সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।প্রবল বৃষ্টি বা বজ্রঝড়ের সময় যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থেকে নিরাপদ ঘরের ভিতরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।পাশাপাশি বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তারের কাছ থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাত্রা শুরুর আগে সরকারি আবহাওয়া অ্যাপ ও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা নিয়মিত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া দ্রুত বদলে যেতে পারে, তাই সঙ্গে রেইনকোট, গরম পোশাক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে বুকিং ও যাত্রার সময়সূচি আর একবার মিলিয়ে নিতে বলা হয়েছে, কারণ আবহাওয়ার কারণে সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশেষ করে ধসপ্রবণ পাহাড়ি রাস্তাগুলিতে অত্যন্ত সতর্কভাবে যাতায়াত করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৪ মে থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বজ্রঝড়ের প্রভাব কমবে এবং ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগও কমে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৫ মে থেকে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হতে পারে এবং চারধাম যাত্রাও তুলনামূলকভাবে মসৃণভাবে চলবে বলে মনে করা হচ্ছে।তবে প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, ধর্মীয় আবেগ যতই প্রবল হোক না কেন, নিরাপত্তাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তাই সম্ভব হলে ১৩ মে-র আগে অপ্রয়োজনীয় যাত্রা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে ভক্ত ও পর্যটকদের।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *