অনেকটা টক না অল্প মিষ্টি ,গরমের হাত থেকে বাঁচতে জেনে নিন এই টক-মিষ্টি ডালের রেসিপি
গরম পড়তেই শরীরে ক্লান্তি,অস্বস্তি,ঘাম আর খাবারে অনীহা এই সমস্যাগুলো যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। এমন সময়ে শুধু পেট ভরালেই চলবে না ,খাওয়ার তালিকায় রাখতে হবে এমন খাবার ,যা শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখবে ও শক্তি জোগাবে। তাই এই মরশুমে অতিরিক্ত তেল-মশলাদার বা ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা,পুষ্টিকর খাবারের উপর জোর দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে বাঙালি রান্নাঘরেও এমন কিছু ঐতিহ্যবাহী পদ রয়েছে,যা গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর।তেমনই একটি জনপ্রিয় ও উপকারি পদ কাঁচা আমের টক ডাল। ডাল -ভাত বাঙালির নিত্যদিনের খাবার।পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সহজ খাবারকে গরমের উপযোগী করে তুলতে ডালে মিশিয়ে নিতে পারেন কাঁচা আম। কীভাবে বানাবেন মুসুর ডাল দিয়ে টকের ডাল জানেন?
কাঁচা আম দিয়ে মুসুর ডাল তৈরির উপকরণ
এই রেসিপি তৈরি করতে লাগবে ১ কাপ মুসুর ডাল ,১ টি মাঝারি আকারের কাঁচা আম ,২ টি শুকনো লঙ্কা,১ চা চামচ গোটা সর্ষে,স্বাদমতো নুন,সামান্য চিনি ,১ চা হলুদ গুঁড়ো,২ টেবিল চামচ সর্ষের তেল এবং ২ টি কাঁচা লঙ্কা।
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথম ধাপ :ডাল ভিজিয়ে রাখা
প্রথমে মুসুর ডাল ভাল করে কয়েকবার জলে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর একটি পাত্রে পর্যাপ্ত জল দিয়ে ডালটি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন।ডাল আগে থেকে ভিজিয়ে রাখলে তা দ্রুত সেদ্ধ হয় ,রান্নার সময় কম লাগে এবং ডালের গুণাগুণও বজায় থাকে।
দ্বিতীয় ধাপ : ডাল সেদ্ধ করা
ডাল ভিজে গেলে সেই জল ঝরিয়ে প্রেশার কুকার বা হাঁড়িতে ডাল নিয়ে পরিমাণমতো জল দিন। সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে দিন। এরপর ডাল ভালভাবে সেদ্ধ করে নিন। যদি কুকারে করেন তবে ২ থেকে ৩ টি সিটি দিলেই সাধারণত যথেষ্ট।ডাল যেন একেবারে মাখা না হয়ে যায় ,সেদিকেও খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরী।
তৃতীয় ধাপ : কাঁচা আম প্রস্তুত করা
এবার কাঁচা আমটি ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। তারপর মাঝারি আকারের টুকরো করে কেটে নিন। চাইলে আটি ফেলে দিতে পারেন কিংবা ব্যবহারও করতে পারেন।তবে আমের টক স্বাদই এই ডালের আসল আকর্ষণ।
চতুর্থ ধাপ :ফোড়ন তৈরি করা
একটি কড়াইতে ২ টেবিল চামচ সর্ষের তেল গরম করুন।তেল গরম হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে তাতে গোটা সর্ষে এবং শুকনো লঙ্কা দিন। সর্ষে ফাটতে শুরু করলে সুন্দর গন্ধ বেরোবে,যা ডালের স্বাদ বাড়াতে কয়েকগুন সাহায্য করবে।
পঞ্চম ধাপ :ডাল মেশানো
ফোড়নের মধ্যে এবার সেদ্ধ করা ডাল ঢেলে দিন। ভাল করে নেড়ে মিশিয়ে নিন। এরপর স্বাদমতো নুন,সামান্য চিনি ,বাকি হলুদ এবং চেরা লঙ্কা দিয়ে দিন। প্রয়োজনমতো জল দিয়ে ডালের ঘনত্ব ঠিক করুন।কেউ পাতলা ডাল পছন্দ করেন ,কেউ আবার ঘন সেই অনুযায়ী জল দিতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপ :কাঁচা আম দিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া
এবার কাটা কাঁচা আম ডালের মধ্যে দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ডাল ফুটতে দিন। আম সেদ্ধ হয়ে নরম না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।এতে আমের টক স্বাদ ডালের মধ্যে মিশে যাবে এবং ডাল পাবে এক অন্যরকম গন্ধ ও স্বাদ।
পরিবেশন
আম সেদ্ধ হয়ে গেলে গ্যাস বন্ধ করে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন।এরপর গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন কাঁচা আমের টকের ডাল। চাইলে পাশে আলুভাজা,পাপের বা মাছভাজাও রাখতে পারেন।
কেন টক ডাল গরমে উপকারি
কাঁচা আম শরীরে জলশূন্যতা রোধ করতে সাহায্য করে। হজম ভাল রাখে এবং ক্লান্তি কমায়।সঙ্গে কাঁচা আমে রয়েছে ভিটামিন সি,খনিজ উপাদান এবং প্রাকৃতিক শীতলতা,যা প্রচন্ড গরমেও আরাম দেয়। অন্যদিকে ডাল শরীরকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও শক্তি জোগায়। তাই এই গরমে গরমে একবাটি ডাল সুস্বাদুই নয়,স্বাস্থ্যকরও।
