পিরিয়ড ক্র্যাম্পে কাবু ?কেন হয় এই ব্যথা ,কীভাবে পাবেন স্বস্তি? রইল সমাধান

0


গোটা মাসটাই হয়তো স্বাভাবিক ছন্দেই কাটে।কাজ,পড়াশোনা,ঘোরাঘুরি সবই ঠিকঠাক।কিন্তু মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটা দিন এলেই যেন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। তলপেটের টান ,কোমরে ব্যথা,শরীর জুড়ে অস্বস্তি।  সব মিলিয়ে পিরিয়ডের ক্র্যাম্প অনেক মহিলার কাছেই এক আতঙ্কের নাম। বয়স যাই হোক না কেন,এই অভিজ্ঞতা কমবেশি প্রায় প্রত্যেক মহিলার সঙ্গেই জড়িত।

কিন্তু কেন হয় এই ব্যথা জানেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে,পিরিয়ডের সময় শরীরে একধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয় ,যা জরায়ুকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে। কিন্তু এই সংকোচনই অনেক সময় তলপেটে ব্যথা, টান ধরা, কোমরে যন্ত্রণা বা বমিভাবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যাদের শরীরে এই পদার্থের মাত্রা বেশি থাকে, তাদের ক্ষেত্রে পেশির সংকোচনও বেশি তীব্র হয়, ফলে ব্যথার অনুভূতিও বেশি হয়।তবে এই ব্যথা যদি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয় বা দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে তা শরীরের অন্য কোনও সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত।তবে এই ক্র্যাম্প থেকে মুক্তি পেতে কী কী করণীয় জানেন?

পিরিয়ড ক্র্যাম্প থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

গরম সেঁক

পিরিয়ডের সময় তলপেটে গরম সেঁক দেওয়া সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতিগুলির একটি। গরম তাপ জরায়ুর আশেপাশের পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং রক্ত চলাচল বাড়ায়, ফলে ব্যথা কমে। সাধারণত গরম পানির ব্যাগ বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করা হয়। দিনে ১৫–২০ মিনিট করে কয়েকবার ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রথম দুই দিনে এটি বেশি উপকারী।

হালকা ব্যায়াম বা যোগা

অনেকে মনে করেন পিরিয়ডে একেবারে বিশ্রামে থাকাই ভাল, কিন্তু আসলে হালকা নড়াচড়া শরীরের জন্য বেশি উপকারি। হালকা হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন'(প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হরমোন ) নিঃসরণ হয়, যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। চাইল্ডস পোজ,ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ মতো ব্যায়ামগুলি তলপেটের পেশি শিথিল করে।

শরীরকে হাইড্রেট রাখা

পিরিয়ডের সময় শরীর ডিহাইড্রেটেড হলে পেশির টান বা ব্লোটিং (পেট ফোলা) বেড়ে যেতে পারে, যা ক্র্যাম্পকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত জল পান করা খুবই জরুরি। শুধু ঠান্ডা জল নয়, গরম জল, হার্বাল চা বা লেবু মিশ্রিত জল খেলে শরীর আরও আরাম পায়। হাইড্রেশন শরীরের টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং পেশিকে নমনীয় রাখে।

প্রয়োজনে ওষুধ ব্যবহার

যদি ব্যথা খুব বেশি শুরু হয় কিংবা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয় ,তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।তবে নিজে থেকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত নয়।

পিরিয়ডের সময় কী কী নিয়ম মেনে চলবেন ?

সঠিক খাবার বেছে নেওয়া

পিরিয়ডের সময় শরীর দুর্বল লাগে, তাই পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুব জরুরি। আয়রনসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, বিট) রক্তের ঘাটতি পূরণ করে এবং ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার (যেমন কলা, বাদাম) পেশির টান কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া হালকা, সহজপাচ্য খাবার খেলে শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

ক্যাফেইন ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা

অতিরিক্ত কফি, চা বা কোমল পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে ডিহাইড্রেট করে এবং পেশির টান বাড়াতে পারে। একইভাবে জাঙ্ক ফুড বা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, যা ক্র্যাম্পকে আরও তীব্র করতে পারে। তাই এই সময় যতটা সম্ভব হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়াই ভালো।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

পিরিয়ডের সময় শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্লান্ত থাকে। যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাহলে শরীরের ব্যথা ও অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। দিনে অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম এবং প্রয়োজনে অল্প সময় বিশ্রাম নেওয়া শরীরকে দ্রুত স্বস্তি পেতে সাহায্য করে।

স্ট্রেস কমানো

মানসিক চাপ পিরিয়ডের ব্যথাকে আরও তীব্র করতে পারে।তাই এই সময় মানসিকভাবে শান্তিতে থাকা খুব জরুরি।প্রতিদিন কয়েক মিনিটের জন্য মেডিটেশনের অভ্যাস করলে শরীরের নার্ভ সিস্টেম আরাম পায়। যাতে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ব্যথা সহনীয় হয়।

পিরিয়ড ক্র্যাম্প একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অভিজ্ঞতা।অবহেলা না করে শারীরিক কষ্টগুলিকে বুঝে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *