কলকাতার বৈঠকে ঐতিহাসিক মোড়, জাতীয় ক্রীড়ানীতিকে মান্যতা এআইএফএফের
ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)।শনিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হল ২০২৫ সালের জাতীয় ক্রীড়ানীতি বা ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্ন্যান্স অ্যাক্ট (এনএসজিএ)।দেশের ফুটবল প্রশাসনে স্বচ্ছতা, আধুনিকীকরণ ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ক্রীড়ামহল।

কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিশেষ সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন এআইএফএফের ১৯ জন কার্যকরী কমিটির সদস্য, ৩২টি রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে নতুন জাতীয় ক্রীড়ানীতিকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ঠিক হয়েছে, নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআইএফএফ-এর সংবিধানও নতুনভাবে তৈরি করা হবে। সদস্য সংস্থাগুলির কাছে খুব শীঘ্রই খসড়া সংবিধান পাঠানো হবে এবং তা খতিয়ে দেখে মতামত জানানোর জন্য তাদের ১৫ দিনের সময় দেওয়া হবে। ফেডারেশনের আশা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় ফুটবলে আরও আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এদিন মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট (এমআরএ) নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই দু’টি সংস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ভবিষ্যতে সেই প্রস্তাবগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং বিড প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা কার্যকরী কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় ক্রীড়ানীতি গৃহীত হলেও আইএসএলের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। জিনিয়াস স্পোর্টসের বহু কোটি টাকার প্রস্তাব নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন ক্লাবের আপত্তি এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে মতভেদের জেরে বিষয়টি আপাতত কার্যকরী কমিটির আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, কলকাতার এই বৈঠক ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক রূপরেখা নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকল বলেই মনে করছে ফুটবলমহল।
