ট্রফি হাতে রোনাল্ডোর কান্না! সৌদিতেও এল ট্রফি, বাকি রইল শুধু বিশ্বকাপ…
ম্যাচের শেষ বাঁশি তখনও বাজেনি। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর চোখ বেয়ে নেমে আসছিল অঝোর জল। রিয়াদের আল আওয়াল পার্কে দাঁড়িয়ে সেই মুহূর্তে যেন আর পাঁচজন ফুটবলারের মতোই আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কারণ, এই কান্না ব্যর্থতার নয়, এ ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের কান্না। এ ছিল অসম্পূর্ণতার গ্লানি মুছে যাওয়ার আনন্দাশ্রু।

অবশেষে আল নাসরের জার্সিতে প্রথমবার সৌদি প্রো লিগ জয়ের স্বাদ পেলেন রোনাল্ডো। দামাককে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে আল নাসর। আর সেই জয়েই যেন পূর্ণতা পেল পর্তুগিজ মহাতারকার তিন বছরের লড়াই। ২০২৩ সালে সৌদি আরবে পা রাখার পর বহুবার খেতাবের খুব কাছে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। সমালোচনা শুনতে হয়েছে, ব্যঙ্গ সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের অদম্য জেদ আর গোলের খিদে দিয়েই ট্রফি তুলে নিলেন সিআর সেভেন। ম্যাচে জোড়া গোলও করেন রোনাল্ডো। ৬২ ও ৮০ মিনিটে তাঁর দুটি গোলই কার্যত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয় আল নাসরের জন্য। বাকি গোল দুটি করেন কিংসলে কোমান ও সাদিও মানে। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সবার নজর ছিল শুধু এক ব্যক্তির উপর, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ট্রফি নিশ্চিত হওয়ার আগেই শিশুর মতো কাঁদতে শুরু করেন তিনি। যেন বুকের ভিতরে জমে থাকা চাপ, অপূর্ণতা আর প্রত্যাশা একসঙ্গে বেরিয়ে এল চোখের জলে।

ট্রফি হাতে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে ট্রফি দেখান রোনাল্ডো। কিছুক্ষণ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর সতীর্থদের সঙ্গে শুরু হয় উন্মাদনা। সমাজ মাধ্যমে তিনি লেখেন, এই ট্রফি আমাদের কাছে অনেক বেশি কিছু’। সেই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে যায় তাঁর আবেগের গভীরতা। এই ট্রফির সঙ্গে আরও একটি ইতিহাস জুড়ে গেল রোনাল্ডোর নামের পাশে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তাঁর মোট ট্রফির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬। স্পোর্টিং সিপি, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস থেকে আল নাসর, যে ক্লাবেই খেলেছেন, সেখানেই অন্তত একটি করে শিরোপা জিতেছেন তিনি। ৪১ বছর বয়সেও তাঁর গোলের খিদে এতটুকু কমেনি, বরং যেন আরও তীব্র হয়েছে। তবে রোনাল্ডোর চোখ এখন অন্য এক মঞ্চে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। আর সেই দলে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ১৭ জুন ডি আর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে পর্তুগালের অভিযান। এরপর উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে তারা। বিশ্বকাপের আগে চিলি ও নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে পর্তুগাল।
পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরো, নেশনস লিগ সবই জিতেছেন তিনি। ব্যক্তিগত রেকর্ডে ছাপিয়ে গিয়েছেন প্রায় সবাইকে। তবু একটা স্বপ্ন এখনও অপূর্ণ। বিশ্বকাপ ট্রফি। হয়তো এটাই তাঁর শেষ সুযোগ। তাই সৌদি প্রো লিগ জয়ের পর সেই কান্না যেন শুধু একটি ট্রফির আনন্দ নয়, বরং বিশ্বকাপের আগে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার আবেগও। ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায়, শেষ নাচে কি তবে ইতিহাস পূর্ণ করবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো?
