২৯ বলে ৯৭ রানের ঝড় ১৫ বছরের বৈভবের, এলিমিনেটরে হায়দরাবাদকে উড়িয়ে জয় রাজস্থানের

0



মুল্লানপুরে বুধবার আইপিএল এলিমিনেটরে যেন একাই ম্যাচের রং বদলে দিল ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। প্লে-অফে প্রথমবার খেলতে নেমেই ২৯ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১২টি ছক্কা। বৈভবের এই তাণ্ডবের উপর ভর করেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৪৮ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিল রাজস্থান।
বৈভবের ইনিংসে মুগ্ধ হয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই। প্রশংসা করেছেন শচীন তেন্ডুলকরও। এক্স হ্যান্ডেলে শচীন লেখেন, ‘বৈভবের ব্যাট সুইং অসাধারণ। পায়ে বল করলেও যেভাবে ফ্রন্টফুট থেকে জায়গা তৈরি করে শট নেয়, তা অনবদ্য। এই স্বাধীনতাই ওকে নিজের মতো খেলতে সাহায্য করে। এই ইনিংস থেকে চোখ সরানো যায় না।’


                         টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন বৈভব। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ২০ বলে ৬০ রান তুলে ফেলেন তিনি। প্যাট কামিন্সের এক ওভার থেকেই আসে ২৫ রান। যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে প্রথম উইকেটে মাত্র ৮ ওভারে ১২৬ রান যোগ করে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় রাজস্থান। মাত্র তিন রানের জন্য আইপিএলের দ্রুততম শতরানের রেকর্ড হাতছাড়া হলেও তাঁর ইনিংস ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে টুর্নামেন্টের সেরা নকআউট ইনিংসগুলির তালিকায়।


                  এই ম্যাচেই একাধিক রেকর্ড ভেঙেছেন বৈভব। ২০১২ সালে ক্রিস গেইলের করা এক মরসুমে ৫৯টি ছক্কার রেকর্ড ভেঙে তাঁর ছক্কার সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৬৫-তে। এছাড়া নকআউট ম্যাচে মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতরান করে সুরেশ রায়নার দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন তিনি। পাওয়ার প্লে-তে সর্বাধিক রান করার ডেভিড ওয়ার্নারের নজিরও ভেঙেছেন এই তরুণ।


                  রাজস্থানের ২৪৩ রানের জবাবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় হায়দরাবাদ। জোফ্রা আর্চারের আগুনে বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই আউট হন অভিষেক শর্মা। এরপর ট্রেভিস হেড ও ঈশান কিশানও দ্রুত ফিরলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় হায়দরাবাদ। শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারে ১৯৬ রানে অল-আউট হয়ে যায় তারা। আর্চার নেন ৩ উইকেট।
                        এই জয়ের ফলে এখন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শুভমন গিলের গুজরাত টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজস্থান। সেই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে খেলবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *