এমবাপ্পের ঝড়ে বিধ্বস্ত সুইডেন, ইতিহাস লিখে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স, পরের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে
কিলিয়ান এমবাপ্পের রাত। ফ্রান্সেরও রাত। নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করেনি দিদিয়ের দেশঁর দল, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্সও উপহার দিয়েছে। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন অধিনায়ক এমবাপ্পে। জোড়া গোল করে তিনি যেমন ইতিহাস লিখেছেন, তেমনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও লিওনেল মেসির পাশে উঠে এসেছেন।
ম্যাচের শুরুতে সুইডেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সময় যত গড়িয়েছে, ততই ফরাসি আক্রমণের তীব্রতা বেড়েছে। বলের দখল, পাসের গতি আর একের পর এক আক্রমণে সুইডিশ রক্ষণকে দিশেহারা করে তোলে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলের চমৎকার পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে গোলের খাতা খোলেন এমবাপ্পে। সেই গোলেই এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে দেশঁর শিষ্যরা। ৫৩ মিনিটে অরেলিয়ে চুয়ামেনির পাস ধরে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত থ্রু বল থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৭৫ মিনিটে আবারও ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। তাতেই সুইডেনের শেষ আশা নিভে যায়।
স্কোরলাইন ৩-০ হলেও মাঠের লড়াই ছিল আরও একপেশে। ফ্রান্স পুরো ম্যাচে ২৫টি শট নেয়, যার ১২টিই ছিল লক্ষ্যে। পোস্টে লেগে ফিরেছে দুটি প্রচেষ্টা, অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে এমবাপ্পের আরেকটি গোল। অন্যদিকে সুইডেন মাত্র আটটি শট নিতে পারে, যার তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

তবে এই জয়কে আরও বিশেষ করে তুলেছেন এমবাপ্পে। জোড়া গোল করে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে মোট ১৮ গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোজেকে ছাড়িয়ে সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। নকআউট পর্বে ১০ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে।
এমবাপ্পের পাশাপাশি দুর্দান্ত ছিলেন মাইকেল ওলিসে। দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি মাঝমাঠে নিজের সৃজনশীলতায় পুরো ম্যাচে সুইডেনকে চাপে রেখেছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে তাঁর অ্যাসিস্টসংখ্যা এখন পাঁচ, যা এক আসরে গত তিন দশকের সর্বোচ্চ।
কোচ দিদিয়ের দেশঁর জন্যও ম্যাচটা ছিল আবেগের। ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে দলের সঙ্গে ফিরে আসার ম্যাচেই শিষ্যদের এমন দাপুটে পারফরম্যান্স দেখলেন তিনি। প্রতিটি গোলের পর খেলোয়াড়দের কোচের দিকে ছুটে গিয়ে উদযাপন যেন সেই আবেগকেই আরও গভীর করে তুলেছে।
টানা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফ্রান্স এখন ট্রফির অন্যতম দাবিদার। শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। এমবাপ্পে যে ছন্দে আছেন, তাতে ফরাসিদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন আরও অনেক দূর পর্যন্ত ছুটতে পারে বলেই বিশ্বাস সমর্থকদের।
