যে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না রোনাল্ডোর! চোখের জলে মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপের মহাকাব্য
ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু বিদায় থাকে, যা শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়, এক যুগের অবসানও। ডালাসে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের সঙ্গে শেষ হয়ে গেল পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান। আর সেই হারই লিখে দিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের শেষ লাইন। যে ট্রফির জন্য দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লড়েছেন, সেই স্বপ্ন এবারও অধরাই থেকে গেল।
৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডো আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটাই হবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তাই শেষ বাঁশি বাজার পর তাঁর নিঃশব্দে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার দৃশ্য যেন কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় ছুঁয়ে যায়। চোখে জল, মুখে হতাশা—কোনও নাটকীয়তা নয়, শুধু অপূর্ণতার ভার নিয়েই বিদায় নিলেন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার।

রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ সফরের শুরুটাও ছিল প্রশ্নে ঘেরা। বয়স, গতি আর আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে না পারা—সব মিলিয়ে সমালোচনা ছিল শুরু থেকেই। মাঠের পারফরম্যান্সও সেই প্রশ্নের পুরোপুরি জবাব দিতে পারেনি। ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়লেও, ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল খুবই সীমিত। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই হারা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুটি গোল এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি পেনাল্টি—এতেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর অবদান। স্পেনের বিপক্ষে তিনি ছিলেন প্রায় নিষ্প্রভ; প্রথমার্ধে মাত্র ১২ বার বল স্পর্শ করেন, যা মাঠে থাকা যে কোনও খেলোয়াড়ের চেয়ে কম।

অন্যদিকে, ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। পর্তুগালও লড়াই করেছে শেষ পর্যন্ত, কিন্তু ৫৬ মিনিটে নুনো মেন্দেসের চোটে রক্ষণভাগ দুর্বল হয়ে পড়ে। তবু মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। সেই আশা ভেঙে দেন বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের পাস থেকে তাঁর নেওয়া নিচু শট জড়িয়ে যায় জালে। সেই এক গোলেই থেমে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
শেষ বাঁশির পর একদিকে যখন স্পেনের উল্লাস, অন্যদিকে ক্যামেরার ফোকাস ছিল এক মানুষের দিকে। ধীর পায়ে টানেলের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন রোনাল্ডো। ড্রেসিংরুমের পথে তাঁর চোখের জল যেন বলে দিচ্ছিল, ফুটবলে প্রায় সব শিরোপা জেতা মানুষটির জীবনে একমাত্র অপূর্ণতা হয়েই থেকে গেল বিশ্বকাপ। সেই মুহূর্তে তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন স্পেনের তরুণ তারকা ইয়ামাল।

বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে না পারলেও, রোনাল্ডোর নাম ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়েই থাকবে। গোল, রেকর্ড, অসংখ্য ট্রফি আর অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে তিনি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। বিশ্বকাপ তাঁর হাতে উঠল না, কিন্তু কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে তিনি চিরকালই একজন বিশ্বজয়ী।
