ট্রাম্প ‘কার্ড’ও ফেল, উড়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র! বিতর্কের জবাব মাঠেই দিল বেলজিয়াম
ফিফার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক ছিল তুঙ্গে। লাল কার্ড দেখেও ফোলারিন বালোগানের নির্বাসন স্থগিত হওয়ায় বিশ্ব ফুটবলে উঠেছিল পক্ষপাতের অভিযোগ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেন ম্যাচ শুরুর আগেই বাড়তি সুবিধা পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাঠের ৯০ মিনিটে সেই সব বিতর্ককে গুরুত্বই দিল না বেলজিয়াম। বরং দুরন্ত ফুটবলে আয়োজকদের ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বেলজিয়াম। ৯ মিনিটেই নিকোলাস রাসকিনের পাস থেকে চার্লস ডি কেটেলারের গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি। ৩১ মিনিটে মালিক টিলম্যানের ফ্রি-কিক থেকে হান্স ফানাকানের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের নিখুঁত ক্রসে আবারও হেডে গোল করে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন ডি কেটেলারে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বেলজিয়াম। ৫৭ মিনিটে মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে হান্স ফানাকান ব্যবধান বাড়ান। যোগ করা সময়ে ক্রিস রিচার্ডসের ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে রোমেলু লুকাকুর গোলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
যে ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে এত বিতর্ক, এত রাজনৈতিক আলোচনা, সেই তিনিই ম্যাচে ছিলেন কার্যত অদৃশ্য। পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করেন মার্কিন ফরোয়ার্ড। বেলজিয়ামের সংগঠিত রক্ষণ তাঁর প্রভাব বিস্তারের সব পথ বন্ধ করে দেয়।

ম্যাচের আগেই বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বেলজিয়াম। কোচ রুডি গার্সিয়া কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘জুলাই মাসেই এপ্রিল ফুল বানিয়ে দিল ফিফা।’ তবে শেষ পর্যন্ত আদালতে নয়, মাঠেই সবচেয়ে জোরালো জবাব দিল তাঁর দল। ট্রাম্পের ফোন, ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কিংবা বালোগান, কোনো কিছুই যুক্তরাষ্ট্রকে বাঁচাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত জিতেছে শুধু বেলজিয়ামের ফুটবল।
