বর্ষায় বেড়াতে যাওয়ার আগে সতর্ক হোন!এড়িয়ে চলুন ভারতের এই ৬ পর্যটনস্থল
বর্ষা মানেই পাহাড়ে মেঘের আনাগোনা, সবুজে মোড়া প্রকৃতি আর ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য। এই সময় অনেকেই পাহাড় বা প্রকৃতির কোলে কয়েক দিনের ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেন। তবে বর্ষার সৌন্দর্যের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকে বড়সড় ঝুঁকিও। টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, রাস্তা ধসে যাওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরও বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ স্থগিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আপাতত যে ৬টি পর্যটনস্থল এড়িয়ে চলাই ভালো
● লোনাভালা ও খান্ডালা (মহারাষ্ট্র)
অবিরাম বৃষ্টিতে পশ্চিমঘাট অঞ্চলে একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে এবং কারজাত-লোনাভালা রুটের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তায় জল জমা, পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়া এবং যান চলাচলে বিঘ্নের কারণে আপাতত এই অঞ্চলে ভ্রমণ স্থগিত রাখাই নিরাপদ।

● তীর্থন ভ্যালি ও চাম্বা (হিমাচল প্রদেশ)
শান্ত নদী, জঙ্গল এবং ট্রেকিংয়ের জন্য জনপ্রিয় এই এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে। হিমাচল প্রদেশের অন্যতম সুন্দর পর্যটনস্থল তীর্থন ভ্যালি। তবে লারজি-সাঞ্জ এবং চাম্বা-তিসা সড়কের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

● গঙ্গোত্রী (উত্তরাখণ্ড)
চারধাম যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান গঙ্গোত্রী যাওয়ার পথে টানা বৃষ্টির কারণে একাধিক স্থানে ভূমিধস হয়েছে। এর জেরে গঙ্গোত্রী হাইওয়ের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এই মুহূর্তে সেখানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

● ডোডা ও কিশ্তোয়ার (জম্মু ও কাশ্মীর)
পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা উঠলেই জম্মু ও কাশ্মীরের নাম আসে। তবে ভারী বর্ষণের জেরে ডোডা ও কিশ্তোয়ার পার্বত্য জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি এখনও থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

● অসম ও অরুণাচল প্রদেশের বন্যাকবলিত এলাকা
অসমের ধেমাজি-সহ একাধিক জেলায় বন্যা ও নদীভাঙনের প্রভাব পড়েছে। বহু গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং রেল পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকাতেও ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এই এলাকাগুলিতে ভ্রমণের আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

● ওয়েনাড় (কেরল)
টানা বৃষ্টির জেরে চুরালমালা এলাকার কাছে মীনাক্ষী অঞ্চলে নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। যদিও ওয়েনাড়ের অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র এখনও খোলা রয়েছে, তবুও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকা বা তীর্থস্থানে যাওয়ার আগে অবশ্যই ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা এবং রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি জেনে নিন। প্রয়োজনে কয়েক দিন ভ্রমণ পিছিয়ে দিলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে, আর আপনার সফরও হবে আরও নিরাপদ।

