‘ব্যর্থতা মেনে নাও, প্রতারণা নয়’- বাবার শেখানো পাঠে নিট বিতর্কে সরব শচীন
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভের আবহে এবার মুখ খুললেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকর। বিনোদন জগতের একাধিক তারকার পর এবার ক্রীড়ামহলের অন্যতম বড় মুখও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করলেন। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তায় শচীন সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং যোগ্যতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় হতাশ ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে শচীন লিখেছেন, তাঁর বাবা ছিলেন একজন অধ্যাপক এবং ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁকে শিখিয়েছিলেন, “ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা করা ঠিক নয়। কখনও সহজ পথ বেছে নেবে না।” সেই শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন একটা সমাজ গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে ফলের চেয়ে পরিশ্রমের মূল্য বেশি, সততাকে উৎসাহ দেওয়া হয় এবং যোগ্যতারই জয় হয়। শচীনের মতে, কঠোর পরিশ্রম করেও যখন ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রাপ্য ফল পায় না, তখন তাদের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই ভবিষ্যতে যাতে কোনও পড়ুয়াকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভারতের তরুণ প্রজন্মই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাবা-মা, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্ব তাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা।

শচীনের মতোই একই ইস্যুতে সরব হয়েছেন ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকের সোনাজয়ী শুটার অভিনব বিন্দ্রা। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, নিজেকে কখনও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দেখেন না, কিন্তু শিক্ষা এমন একটা বিষয় যা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সঙ্গে জড়িত। তাঁর মতে, একটি দেশের শক্তি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নে নয়, বরং এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্যেও নিহিত, যেখানে তরুণদের জন্য সমান সুযোগ, আত্মবিশ্বাস এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়। প্রসঙ্গত, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ চলছে। রাজধানী দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও আপস নয়। মেধা, সততা এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য অক্ষুণ্ণ রাখার দাবিতেই একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা।

