বইমেলার ৫০-এ বড় চমক! ‘বন্দে মাতরম’ থেকে বাংলাদেশ- কী কী বদল আসছে এ বার?

0


বইয়ের পাতা উল্টোনোর আগেই ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ঘিরে একের পর এক প্রশ্নের উত্তর মিলতে শুরু করেছে। কবে শুরু হবে মেলা, কী হতে চলেছে মূল থিম, কোন দেশ পেতে পারে ‘থিম কান্ট্রি’র মর্যাদা, স্টল বণ্টন কীভাবে হবে, এমনকি বাংলাদেশ থেকে প্রকাশকরা আদৌ আসতে পারবেন কি না-সব মিলিয়ে সুবর্ণজয়ন্তীর বইমেলা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। সোমবার প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই ঘোষণা হয়ে গেল দিনক্ষণ। ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি শুরু হবে ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অর্থাৎ এবার শুধু আর একটি বইমেলা নয়, পাঁচ দশকের যাত্রাকে সামনে রেখে বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
এ বারের মেলার কেন্দ্রীয় ভাবনায় থাকছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর। উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি জানিয়েছেন, স্বাধীনতা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ এবং ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই অধ্যায়কে সামনে রাখার পরিকল্পনা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কেও মেলার সঙ্গে যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে। দেশভাগ, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম এবং সেই সময়ের মানুষের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার কথাও ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলার নবজাগরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব রাজনারায়ণ বসুর ২০০ বছর পূর্তিও জায়গা পেতে পারে। জনপ্রিয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক ভাবনা-উত্তম কুমারের ১০০ বছর এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ রচনার ১০০ বছর নিয়েও বিশেষ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় কৌতূহল ‘থিম কান্ট্রি’ নিয়ে। প্রাথমিক আলোচনায় ইজরায়েলের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি অনুমোদন মিললে ইজরায়েলকে থিম কান্ট্রি করা হতে পারে। আর তা না হলে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষই মেলার মূল আকর্ষণ হয়ে উঠবে। শেষ সিদ্ধান্ত নেবে অ্যাডভাইসারি কমিটি। এর মধ্যেই সামনে এসেছে স্টল বণ্টন নিয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এতদিনের পদ্ধতির বদলে এবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্টল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদন ও জায়গা বণ্টনের ভাবনা রয়েছে। ফলে কোন প্রকাশক কতটা জায়গা পাবেন, সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যেই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই জায়গাতেই তৈরি হয়েছে আর একটি বিতর্ক। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের তরফে ইতিমধ্যেই যে বিজ্ঞাপন দিয়ে স্টলের আবেদন নেওয়া হয়েছিল, সেটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে জানিয়েছে নতুন উপদেষ্টা কমিটি। কমিটির বক্তব্য, তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞাপনের ভিত্তিতে জমা পড়া আবেদনও বাতিল হতে পারে। নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ফের অনলাইনে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ বক্সি।
আর সবশেষে রয়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় প্রশ্ন। গত দু’বছর কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের কোনও বুক স্টল দেখা যায়নি। এ বারও পরিস্থিতি খুব একটা সহজ নয়। বাংলাদেশের প্রকাশকদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ বক্সি। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধু বইমেলা কমিটির হাতে নেই। বাংলাদেশি বই নিয়ে কিছু অভিযোগ ও আপত্তির বিষয়ও বৈঠকে উঠেছে। তবে সেগুলির সত্যতা যাচাই বা তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিষয় বলেই জানিয়েছে কমিটি। তাই বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন বা প্রকাশকদের উপস্থিতি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা করা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে ৫০তম কলকাতা বইমেলা শুরু হওয়ার চার মাসেরও বেশি আগে থেকেই জমে উঠেছে প্রস্তুতি এবং বিতর্ক। ছবি সৌজন্যে ফেসবুক (Photo courtesy: Facebook)

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *