‘ইন্ডাস্ট্রিতে একমাত্র বন্ধু…’,সৃজলা ও তিতিক্ষার ইন্ডাস্ট্রিতে কাছের বন্ধু কারা জানেন?বন্ধুত্বের দিনে অকপট দুই অভিনেত্রী
বন্ধুত্বের জন্য কি সত্যিই কোনও বিশেষ দিনের প্রয়োজন? এই প্রশ্ন সর্বকালের। কারণ বন্ধুত্ব তো কোনও একটি দিন বা তারিখে আটকে থাকে না। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে হঠাৎ একটা ফোন, মন খারাপের সময় পাশে থাকা, কিংবা বহুদিন পর দেখা হয়ে গেলেই আগের মতো আড্ডায় মেতে ওঠা এসবের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বন্ধুত্বের আসল অর্থ। তবুও নিজের কাছের বন্ধুর জন্য একটা বিশেষ দিন উদযাপন করাই যায়। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে অবশ্য নায়িকাদের বন্ধুত্ব যে খুব একটা গাঢ় হয়না সেই ধারণা বহুদিনের।কিন্তু বাস্তবের গল্প অনেক সময় সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে। সেই বন্ধুত্বের প্রসঙ্গেই ফ্রেন্ডশিপ ডে-তে নিজেদের ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী সৃজলা গুহ ও তিতিক্ষা দাস। তাঁদের কাছে বন্ধুত্ব কী এবং কারা তাঁদের কাছের বন্ধু জানেন?
আডিশনকে অভিনেত্রী সৃজলা গুহ জানান, তাঁর কাছে বন্ধুত্ব খুবই বিশেষ একটি সম্পর্ক। তাঁর মতে,ইন্ট্রোভার্ট বলেই খুব সহজে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারেন না তিনি।তাই জীবনে বন্ধুর সংখ্যাও খুব বেশি নয়, বরং হাতে গোনা কয়েকজনই তাঁর অত্যন্ত কাছের।ইন্ডাস্ট্রিতে সৃজলার অন্যতম কাছের বন্ধু অনন্যা সেন। তাঁদের বন্ধুত্ব শুধু কাজের জগতেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিগত পছন্দ, ভাবনা কিংবা জীবন নিয়ে আলোচনাতেও তাঁদের যথেষ্ট মিল রয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।সৃজলার কথায়, “ভীষণ ইন্ট্রোভার্ট হওয়ার কারণে খুব একটা বন্ধুত্ব বানাতে পারি না।ইন্ডাস্ট্রিতে কাছের বন্ধু বলতে অনন্যা সেন। অনন্যা আর আমি আমরা দুজনেই সবসময় মন থেকে এক অপরের ভাল চাই। তাছাড়া ইন্ডাস্ট্রির কাজ ছাড়াও আমাদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে, যেগুলো নিয়ে আমাদের কথা হয়।”
তবে বন্ধুত্বের জন্য কোনও নির্দিষ্ট মাপকাঠি থাকতে পারে বলে মনে করেন না সৃজলা। বয়স, চেহারা কিংবা ব্যক্তিত্বের কোনও হিসেব নয়, বরং কারও সঙ্গে মনের মিল তৈরি হওয়া এবং তাঁর সঙ্গ উপভোগ করতে পারাটাই আসল।অভিনেত্রীর কথায়, “বন্ধুত্বের জন্য আলাদা করে কোনও বৈশিষ্ট্য থাকে না।চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে বন্ধুত্ব হয় না। কারও সঙ্গে যদি একটা মনের মিল থেকে যায় বা কারও সঙ্গে সময় কাটতে যদি ভালো লাগে, বুঝতে হবে যে তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বটা এগোতে পারে।”
সৃজলার এই কথার সঙ্গে যেন অন্যভাবে মিলে যায় তিতিক্ষার বন্ধুত্বের সংজ্ঞাও। তাঁর কাছে বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি বিশ্বাস।যে মানুষের কাছে দিনের সমস্ত নেতিবাচকতা, মন খারাপ কিংবা না বলা কথাগুলো নির্দ্বিধায় বলা যায়, সেই মানুষই তাঁর কাছে প্রকৃত বন্ধু।তিতিক্ষার কথায়, “আমার কাছে বন্ধুত্ব মানেই বিশ্বাস। সেটার ভিত্তিতেই আমার কাছে পুরো বন্ধুত্বটা থাকে। যাঁদের সারাদিনের যা নেতিবাচকতা থাকে, সেগুলো বলা যায়।”
তবে ইন্ডাস্ট্রিতে এসে তৈরি হওয়া বন্ধুত্বের কথাও বলতে গিয়ে নন্দিনীর প্রসঙ্গ উঠে আসে তিতিক্ষার কথায়। ‘দুই শালিক’-এর সূত্রে তৈরি হওয়া সেই সম্পর্ক আজও তাঁর কাছে বিশেষ। শ্বেতা মিশ্রও তাঁর অত্যন্ত কাছের বলে জানান অভিনেত্রী।তবে তিতিক্ষা এটাও স্পষ্ট করে দেন, ওঠাপড়ার মধ্য দিয়েই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। তিতিক্ষার কথায়, “আমাদের মধ্যে কোনওদিনও মনমালিন্য হয়নি, সেটা নয়। কিন্তু সত্যিকারের কোনও বন্ধুত্ব তৈরি হতে গেলে তার মধ্যে চড়াই-উতরাই থাকেই। আমাদের ক্ষেত্রেও সেরকম হয়েছে। হঠাৎ করে যে এত ভালো বন্ধুত্ব, সেরকম নয়। তৈরি হতে একটু সময় লেগেছে। কিন্তু যখন তৈরি হয়েছে, আশা করি সেটা সারাজীবন থাকবে।”তিতিক্ষার কথায়, “নন্দিনী আমার ওরকম বন্ধু নয় যখন দেখা হবে তখনই শুধু মনে থাকবে। যখন আমাদের একে অপরের পাশে থাকার হয়, আমরা দুজনেই সেটার চেষ্টা করি।সম্পর্কে একটা স্বচ্ছতা রাখারও চেষ্টা করি।যখন যেটা মনে হবে, সেটা একে অপরকে বলে দেওয়ার চেষ্টা করি।”
তবে বন্ধুত্বের অভিজ্ঞতা সবসময় সুখের হয়নি দুই অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেই। সৃজলা যেমন অতীতে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আঘাত পাওয়ার কথা বলেছেন, তেমনই তিতিক্ষারও বন্ধুত্বে মন ভেঙেছে বহুবার।কাছেও রয়েছে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেই কারণেই নতুন করে বন্ধুত্ব তৈরি করার ক্ষেত্রে একটা দ্বিধা বা ভয় কাজ করে তাঁর মধ্যে।কাজের দিক থেকে বর্তমানে সৃজলা গুহকে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতে দেখা যাবে। অন্যদিকে তিতিক্ষা দাস এই মুহূর্তে কোনও ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও আগামী দিনে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাঁকে।
