ছেলের মৃত্যুর পর ভোটের মঞ্চে মা হাসি রানি! চন্দ্রনাথ কাণ্ডে ‘২ কোটি’ খরচের বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
এমনটাই কানাঘুষো চর্চা চলছিল। তাই সত্যি হল। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রানি রথকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করে নন্দীগ্রামের ময়দানে নামল বিজেপি। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে হলদিয়ার মহকুমা শাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দেন হাসি রানি রথ। তার আগে কদমতলা থেকে হলদিয়া পর্যন্ত বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল হয়।
এ দিন মনোনয়নের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হাসি রানীর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নাম প্রকাশের পর নন্দীগ্রামের জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে মনোনয়নের পথে রওনা হন তিনি। সভামঞ্চ থেকে হাসি রানিকে বিপুল ভোটে জেতানোর ডাক দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এবার নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় এমন ব্যবধানে হবে, যা আগে কেউ ভাবেননি। ২০২১-এর নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, নন্দীগ্রামের মানুষ গত পাঁচ বছরে যে পরিষেবা পেয়েছেন, আগামী দিনেও তা চালু থাকবে। প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ২০২৬-এ জয়ী করলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত একই ধারার পরিষেবা দেওয়ার ‘গ্যারান্টি’ও দেন তিনি। বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার, জেল খাটা ও মামলায় জড়ানো দলীয় নেতাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া এবং পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির জন্য কাজ, খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রামে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাবও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ৬৭ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। প্রায় ৮ হাজার অসম্পূর্ণ বাড়ির জন্য দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা এবং আরও ১৩ হাজার ৭০০ বাড়ির জন্য প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। হরিপুরে দমকল কেন্দ্র চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি। নন্দীগ্রাম-হলদিয়া সেতুর ক্ষেত্রে মাটি পরীক্ষা ও সমীক্ষার কাজ এবং প্রাথমিক ভাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এ দিনের সভায় সবচেয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায় চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ড নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যে। তাঁর দাবি, চন্দ্রনাথকে সরিয়ে দিতে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। এই টাকা ‘ভাইপো গ্যাং’ দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দু জানান, ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই এবং এখনও পর্যন্ত শ্যুটার ও সুপারি-সহ সাতজন গ্রেফতার হয়েছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রত্যাশাও জানান তিনি।
চন্দ্রনাথকে নিজের ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ বলে উল্লেখ করে শুভেন্দুর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁকে সহযোগিতা করাই চন্দ্রনাথের ‘সবচেয়ে বড় অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই কারণেই তাঁকে নৃশংস ভাবে খু*ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সংখ্যালঘু ভোটারদেরও এ দিন বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘুদের সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ভোট তাঁদের কাছে এক ধরনের ‘পরীক্ষা’। একইসঙ্গে ২০২১-এর ভোটের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম আবারও বিজেপির পক্ষেই রায় দেবে। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তাঁর মাকে প্রার্থী করে বিজেপি যে আবেগের আবহ তৈরি করতে চাইছে, তা এ দিনের কর্মসূচিতে স্পষ্ট। সেই আবেগ কতটা ভোটে বদলে যায়, এখন নজর সেদিকেই।
