চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবকে শেষ সুযোগ, জমা দিতে হবে ২ কোটি

0



দুঃসময় যেন পিছু ছাড়ছে না অভিনেতা রাজপাল যাদবের। একের পর এক আইনি জটিলতায় এখনও স্বস্তি মেলেনি অভিনেতার। চেক বাউন্স মামলায় মঙ্গলবার ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। আর সেখানেই রাজপালকে বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য শেষ সুযোগ দিল শীর্ষ আদালত। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দেওয়ার পাশাপাশি ২ কোটি টাকা আদালতের রেজিস্ট্রিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন দুই বিচারপতি এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিষয়টি মেটানোর জন্য এটিই রাজপাল যাদবের শেষ সুযোগ। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে আত্মসমর্পণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।রাজপাল যাদবের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী পি এস পাটওয়ালিয়া। তিনি দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে জানান, অভিনেতা ২ কোটি টাকা জমা দিতে প্রস্তুত। বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও আদালতে জমা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে চার মাস জেলে কাটিয়েছেন রাজপাল। বাকি টাকা জোগাড় করতে বিনোদন জগতের বন্ধুদের সাহায্য নিতে হতে পারে বলেও জানান তাঁর আইনজীবী।

অন্যদিকে, অভিযোগকারী সংস্থা মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের হয়ে আইনজীবী অজিত সিনহা আদালতে জানান, সংস্থার মূল লক্ষ্য হল বকেয়া টাকা ফেরত পাওয়া। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও রাজপাল টাকা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।

প্রসঙ্গত, মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে। একটি ছবির জন্য রাজপাল যাদবকে প্রায় ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারী সংস্থার দাবি। পরে ২০১৩ সালে টাকা ফেরতের জন্য ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট সাতটি চেক দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই সব চেকই বাউন্স করে।অভিযোগকারী সংস্থার আরও দাবি, ২০১২ সালে সই হওয়া একটি চুক্তি অনুযায়ী রাজপাল যাদব, তাঁর স্ত্রী রাধা রাজপাল যাদব এবং তাঁদের সংস্থার প্রায় ১১ কোটি টাকা, সুদ-সহ, ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।

মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে। একটি ছবির জন্য রাজপালকে প্রায় ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে ২০১৩ সালে টাকা ফেরতের জন্য ১.০৫ কোটি টাকার সাতটি চেক দেওয়া হলেও সেগুলি বাউন্স করে। ২০১৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে ছ’মাসের কারাদণ্ড দেয়, পরে সেশনস কোর্ট সেই সাজা কমিয়ে তিন মাস করে। চলতি বছরের ১০ জুলাই দিল্লি হাইকোর্টও তাঁর দোষ বহাল রেখে তিন মাসের সাজা দেয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাজপাল যাদব। ৮ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালত ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার শর্তে তাঁকে আপাতত হেফাজতের বাইরে থাকার সুযোগ দেয়। মঙ্গলবারের শুনানিতে সেই সময়সীমা ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *