নয় অবতারে অনন্তের লড়াই, ইতিহাসের নতুন পাঠে চমকে দিলেন জিৎ
স্বাধীনতার ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র রয়েছেন, যাঁদের জীবনকে এক শব্দে ব্যাখ্যা করা যায় না। অনন্ত সিং তাঁদেরই একজন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের সাহসী বিপ্লবী, মাস্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম সঙ্গী-আবার স্বাধীনতার পর নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়া এক রহস্যময় মানুষ। কারও কাছে তিনি দেশের বীর, কারও কাছে ডাকাত। সময়ের সঙ্গে সেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইতিহাসের সেই ধূসর অধ্যায়ই এবার বড়পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে চলেছেন পরিচালক পথিকৃৎ বসু। আর সেই অনন্ত সিংয়ের চরিত্রে নিজেকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন টলিউড সুপারস্টার জিৎ।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবির অফিসিয়াল ট্রেলার। প্রথম ঝলকেই স্পষ্ট, এটা কেবল কোনও ঐতিহাসিক চরিত্রের জীবনকাহিনি নয়, বরং স্বাধীনতার ইতিহাসের এক অনালোচিত অধ্যায়ের সিনেম্যাটিক উপস্থাপনা। ট্রেলারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ জিতের ন’টা ভিন্ন অবতার। অনন্ত সিংয়ের জীবনের বিভিন্ন বয়স, সময়, আত্মগোপন, ছদ্মবেশ ও সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়কে ফুটিয়ে তুলতেই অভিনেতাকে নয়টি আলাদা রূপে দেখা যাবে। প্রতিটি লুকের সঙ্গে বদলেছে তাঁর শারীরিক গঠন, অভিব্যক্তি ও মানসিক অবস্থার প্রকাশ। দীর্ঘ গবেষণা, একাধিক লুক টেস্ট এবং বিশেষ মেকআপের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে এই রূপান্তর।
ট্রেলারে অনন্ত সিংকে শুধু বন্দুক হাতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায় না, দেখা যায় তাঁর আদর্শ, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার পর দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগও। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ ভারত গড়ার স্বপ্নই যেন তাঁর লড়াইয়ের মূল প্রেরণা। সেই কারণেই ছবিটি শুধুমাত্র একটা বায়োপিক নয়, বরং ইতিহাস, আদর্শ এবং দৃষ্টিভঙ্গির গল্প হয়ে উঠেছে।
ট্রেলারের শেষে জিতের সংলাপ-‘কী মনে হচ্ছে, আমি বিপ্লবী না আমি ডাকাত?’ দর্শকের মনে একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। এই একটা সংলাপই ছবির মূল দর্শনকে তুলে ধরে। ট্রেলার প্রকাশের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ঐতিহাসিক আলিপুর জেল মিউজিয়াম, যা একসময় বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর বন্দিজীবনের সাক্ষী ছিল। এই স্থানেই ট্রেলার প্রকাশের সিদ্ধান্ত ছবির ভাবনার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। ছবিতে জিতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী, কৌশিক সেন, রজতাভ দত্ত, চন্দন সেন, প্রিয়াঙ্কা সরকার, লোকনাথ দে এবং দেবোত্তমা সাহা। নন্দী মুভিজ ও জিৎজ ফিল্মওয়ার্কস প্রযোজিত এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন শান্তনু মৈত্র। প্রথমে মে মাসে মুক্তির কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে, আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বহু প্রতীক্ষিত এই ছবি।
