‘লকড়ি কি কাঠি’র সেই ছোট্ট রাহুল ফিরছেন! ‘মাসুম’-এর নতুন মুখে বৈভবকে চেয়েছিলেন শেখর!
কিছু সিনেমা শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তাদের গল্প শেষ হয় না। সময়ের স্রোত পেরিয়েও তারা থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে, কখনও কোনও গানের সুরে, কখনও কোনও শিশুর নিষ্পাপ মুখে। ‘লকড়ি কি কাঠি’ কিংবা ‘ছোটা বাচ্চা জান কে হামকো’ বাজলেই যেমন আজও ফিরে আসে ‘মাসুম’-এর সেই ছোট্ট রাহুল। চার দশকেরও বেশি সময় পর সেই রাহুলই ফিরছেন তাঁর প্রথম সিনেমার জগতে। ফিরছেন যুগল হংসরাজ।
১৯৮৩ সালে শেখর কাপুরের ‘মাসুম’ শুধু একটা সিনেমা ছিল না, পরিবার, সম্পর্ক, অপরাধবোধ ও শিশুমনের আবেগের এক অসামান্য গল্প হয়ে উঠেছিল। সেই ছবিতে নাসিরুদ্দিন শাহর ছেলে রাহুলের চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন যুগল। এবার সেই শেখর কাপুরেরই ‘মাসুম: দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ আবার দেখা যাবে তাঁকে। সঙ্গে থাকছেন নাসিরুদ্দিন শাহ ও শাবানা আজমি।

এই ফিরে আসাটা যুগলের কাছেও নিছক অভিনয়ে ফেরা নয়। তাঁর কথায়, ‘মাসুম’ তাঁর জীবনের, তাঁর পরিচয়েরই একটা অংশ। চার দশক পেরিয়েও মানুষ তাঁকে ‘মাসুম বয়’ বলে চিনতে পারেন। এমনকি নিউইয়র্কের রাস্তাতেও অপরিচিতরা তাঁকে থামিয়ে জানান, তাঁদের সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিরা এখনও ‘লকড়ি কি কাঠি’ শোনে। কেউ কেউ এমন আপন করে কথা বলেন, যেন তিনি তাঁদের পরিবারেরই একজন। সেই ভালবাসার জায়গাতেই আবার ফিরছেন যুগল। শেখর কাপুরের কাছেও এই প্রত্যাবর্তনে অন্যরকম আবেগ। তাঁর কথায়, ছোট্ট সেই ছেলেটাকে এত বছর পর একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হিসেবে নতুন ‘মাসুম’-এ স্বাগত জানানো একই সঙ্গে তৃপ্তি ও আবেগের। নাসির ও শাবানার সঙ্গে যুগলের ফের একসঙ্গে থাকা যেন সময়ের ব্যবধানকেও মুছে দেয়।
নতুন ছবিটা অবশ্য পুরনো গল্পের পুনরাবৃত্তি নয়। সমসাময়িক পারিবারিক সম্পর্ক, পরিচয়ের সংকট এবং প্রজন্মের বদলে যাওয়া সমীকরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে ‘মাসুম: দ্য নেক্সট জেনারেশন’। ছবিতে রয়েছেন মনোজ বাজপেয়ী, নিত্যা মেনন ও শেখর কাপুরের মেয়ে কাবেরী কাপুর। অস্কারজয়ী এ আর রাহমান যুক্ত হয়েছেন সহপ্রযোজক ও সংগীত পরিচালক হিসেবে।

এর মধ্যেই নতুন এক মজার নস্ট্যালজিয়াও তৈরি করেছেন শেখর। তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর মুখে ‘মাসুম’-এর সেই নিষ্পাপ ছাপ দেখে তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেটার না হলে হয়তো এই কিশোরকেই নতুন ছবির প্রধান চরিত্রে ভাবতেন। তবে শেষ পর্যন্ত রুপোলি পর্দায় ফিরছেন সেই ছোট্ট রাহুলই-শুধু মুখে বয়সের ছাপ নিয়ে। আর তাঁর সঙ্গে ফিরছে এক প্রজন্মের শৈশব। ‘লকড়ি কি কাঠি’ আর ‘ছোট্টা বাচ্চা জান কে হামকো’-র সুরে যে শৈশব আজও আটকে আছে, নতুন ‘মাসুম’ হয়তো সেই পুরনো দরজাটাই আবার খুলে দেবে।

