‘স্বরূপ বিশ্বাস শ্লীলতাহানি করেননি’, মামলা তুলে এ বার পাল্টি রূপসজ্জা শিল্পী সিমরনের
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক অভিযোগ উঠেছিল ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। গত জুন মাসে শ্লীলতাহানি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন স্বরূপ বিশ্বাস।অভিযোগ,রূপসজ্জা শিল্পী সিমরন পালের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং ফেডারেশনের শর্ত না মানায় দীর্ঘদিন কাজ বঞ্চিত করা হয়েছিল তাঁকে। তবে ২ মাস বাদে অর্থাৎ শুক্রবার রাতে আচমকাই বদলে গেল সেই ছবি। ফেসবুক লাইভে এসে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের কথা জানান সিমরন। তিনি বলেন,”স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লীলতাহানি করেননি।”
এ বার আডিশনের কাছে মুখ খুলে নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করলেন সিমরন। কেন হঠাৎ মামলা প্রত্যাহার করলেন তিনি?এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমাকে যে পরিচালনা করা হয়েছে, ব্যবহার করা হয়েছে সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। নিজের বিবেকের কাছে ছোট হয়েছি। পরিস্থিতি বুঝেই এই বিষয়ে বিস্তরভাবে কোনও কথা বলছি না। আমার উকিলের সাহায্যে আমি মামলাটা তুলেছি। যদি সেরকম পরিস্থিতি হয়, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় জানাব, কে আমাকে চাপ দিয়েছিল, কী ঘটেছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি কাউকে কিছু বলছি না।”সিমরনের দাবি, তাঁর মূল অভিযোগ ছিল শান্তনু দে এবং বাপি মালাকারের বিরুদ্ধে। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ তিনি করেননি বলেই দাবি তাঁর। তাঁর কথায়, “অভিযোগটা আমি করেছিলাম শান্তনু দে এবং বাপি মালাকারের নাম করে। আমি স্বরূপদার নামে কিছু করিনি।”
সিমরনের বক্তব্য, ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে স্বরূপ বিশ্বাসকে গোটা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁকে বোঝানো হয়েছিল। তাঁর কথায় , “যাঁরা আমাকে ব্রেনওয়াশ করেছিলেন, তাঁরা বলেছিলেন দাদা করিয়েছে। আমিও ভেবেছিলাম, উনি যেহেতু ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট, তাঁর প্রয়োজনে বা নির্দেশেই হয়তো সব কিছু হয়েছে। আমি তো অভিযোগটা লিখিনি, কোনও বিবৃতিও দিইনি। শুধু সই করেছিলাম। আমাকে এসে এগুলো বলা হয়েছিল, আমার ব্রেনওয়াশ করা হয়েছিল।”স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে সিমরন বলেন, “স্বরূপ বিশ্বাস কখনও আমার শ্লীলতাহানি করেননি। আমি কোনও সাক্ষাৎকারেও বলিনি যে উনি আমাকে ডেকে বা ফোন করে কটূক্তি করেছেন কিংবা আমার বাড়িতে এসে শ্লীলতাহানি করেছেন। এসব কিছুই করেননি।”
তাঁর দাবি, ৪ তারিখ তাঁর বাড়িতে আসা এক ব্যক্তি তাঁকে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা চিঠি তুলে নিতে হুমকি দিয়েছিলেন। সিমরনের কথায়, “আমাকে বলা হয়েছিল, দাদার উপর থেকে চিঠিটা তুলে নাও, না হলে ওঁরা তোমাকে মেরে ফেলবে। তাহলে আমি দাদার ব্যাপারে শ্লীলতাহানির কথা কোথা থেকে তুলে আনলাম? কোথায় আমি বললাম যে দাদা আমাকে শ্লীলতাহানি করতে এসেছিল?”নিজেকে ‘কাঠের পুতুল’ বলেও আক্ষেপ করেন সিমরন। তাঁর বক্তব্য, “আমি একটা কাঠের পুতুল। আমাকে যেভাবে নাচিয়েছে, সেভাবেই নেচেছি। আমার অভিযোগের জন্য দাদাকে গ্রেফতার করা হয়নি, পুরোটা সাজিয়ে-গুছিয়ে করা হয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, এই ঘটনার জেরে তাঁরই বদনাম হয়েছে, অথচ যে সমস্যার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন, তার কোনও সমাধান হয়নি।কাজ না পাওয়ার অভিযোগও সামনে আনেন সিমরন। তাঁর জানান,২০১৭ সাল থেকেই তাঁকে বয়কট করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন কাজ দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমাকে তিন বছর বাপি মালাকার কাজ থেকে ব্যান করে রেখেছিল। ২০১৭ থেকে বয়কট করে রেখেছে, কাজ দিচ্ছে না। আমার পেটে লাথি মারা হয়েছে, তাও আমি কিছু বলিনি। এখনও কেউ কাজ দিচ্ছে না। আমার সংসার চলছে না।”
শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভেও তিনি জানান,কিছু মানুষ তাঁকে মিথ্যে অভিযোগ করতে প্ররোচিত করেছিলেন।সিমরনের দাবি, কয়েকজনের কথায় এবং চাপের মুখেই তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি কখনও বলিনি যে স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লীলতাহানি করেছেন। যে অভিযোগপত্রটি লেখা হয়েছে, সেটিও আমার নয়। সইটা হয়তো আমার, কিন্তু আমাকে চাপ দিয়ে করানো হয়েছিল।”লাইভে তিনি জানান, শান্তনু দে ও বাপি মালাকারের বিরুদ্ধেই মূলত অভিযোগ করেছিলেন তিনি। স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে তাঁর অভিযোগ ছিল না বলেই দাবি করেন সিমরন। তাঁর জবানবন্দির কারণেই স্বরূপ গ্রেফতার হয়েছেন এমন দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির খবর শুনে তাঁর খারাপ লেগেছিল বলেও জানান সিমরন। তিনি বলেন, “দাদা দুই মেয়ের বাবা, আমিও দুই মেয়ের মা। আমার খুব খারাপ লাগছিল। মিথ্যে একটা জালে দাদা ফেঁসেছেন, আমিও ফেঁসেছি। তাই নিউ আলিপুর থানায় গিয়ে আমি মামলা প্রত্যাহার করেছি।”
তবে নতুন বিতর্কে জড়াতে চান না সিমরন। নতুন সরকার গঠনের পর ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও নিজের বক্তব্য জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর একটাই দাবি,কোনও ঝামেলা না করেই এ বার কাজ করতে চান তিনি। দীর্ঘদিনের কাজ হারানোর অভিযোগের পর নতুন করে নিজের পেশায় ফিরতে চান এই রূপসজ্জা শিল্পী।
