হেরিটেজ ওয়াক থেকে মধ্যরাতের কেক কাটা! উত্তমের শতবর্ষে বছরভর উৎসব!

0



উত্তমকুমার শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক নন, বাঙালির আবেগ, নস্টালজিয়া এবং সংস্কৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা এক চিরকালীন নাম। তাঁর অভিনয়ের জাদু আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে টানে। এবার সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরভর একগুচ্ছ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ আয়োজন দিয়ে শুরু হবে এই উদযাপন। তবে কয়েক দিনের অনুষ্ঠানে থেমে না থেকে সারা বছরই চলবে নানা চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার নন্দনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে বাংলা চলচ্চিত্রের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, অরিন্দম শীল, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শঙ্কর চক্রবর্তী, মুনমুন সেন ও রাজ চক্রবর্তী-সহ অনেকে। জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জন্য ২০ সদস্যের একটি পরামর্শদাতা বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই বোর্ডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।মহানায়কের স্মৃতিবিজড়িত কলকাতার বিভিন্ন স্থান ঘিরে হবে বিশেষ ঐতিহ্য ভ্রমণ। জন্মদিনের রাতে থাকবে মধ্যরাতের কেক কাটার অনুষ্ঠান। তাঁর নির্বাচিত ছবিগুলি মুক্ত প্রাঙ্গণে দেখানোর পাশাপাশি উত্তমকুমারের জীবন, অভিনয় এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান নিয়ে হবে বিশেষ প্রদর্শনী। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ, শিল্পী, গবেষক ও সমালোচকদের নিয়ে আলোচনাসভা এবং চলচ্চিত্র বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনা চক্রেরও আয়োজন করা হবে।
জন্মশতবর্ষের অন্যতম বড় উদ্যোগ নিউ টাউনে ‘উত্তমকুমার চলচ্চিত্র কেন্দ্র’ তৈরি। নন্দনের আদলে তৈরি হতে চলা এই কেন্দ্রে আধুনিক প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের শতবর্ষের ইতিহাস ও তথ্য নিয়ে বিশ্বমানের সংগ্রহশালা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য হিডকোর কাছে প্রয়োজনীয় জমিও চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন। দক্ষিণ কলকাতার উত্তম মঞ্চের আধুনিকীকরণেও সাহায্যের হাত বাড়াবে রাজ্য সরকার। মহানায়কের স্মৃতিকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে তাঁর নামাঙ্কিত বিভিন্ন জায়গা নিয়েও ভবিষ্যতে পরিকল্পনা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘উত্তমকুমার প্রকৃত অর্থে নায়কের নায়ক। তাই তাঁকে মহানায়ক বলা হয়। আমার মন্ত্রীত্বের সময়ে তাঁর শতবর্ষ পালন করার সুযোগ পেয়েছি, এটা ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া সম্ভব নয়।’ জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সঙ্গে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকেও যুক্ত করা হয়েছে। এ বার জাতীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর চলবে উৎসব। ফলে মহানায়কের ১০০ বছরের পথচলা, তাঁর শিল্পসত্তা ও বাংলা চলচ্চিত্রে অবদানকে কেন্দ্র করে কলকাতায় বছরভরই তৈরি হতে চলেছে স্মৃতির এক বিশেষ আবহ।

ছবি সৌজন্যে: শুভেন্দু অধিকারী ফেসবুক

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *