মহানায়কের নামে নতুন স্বপ্ন! নিউটাউনে ফিল্ম সেন্টারের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর, মিঠুনকে বড় দায়িত্ব!
মহানায়কের নাম শুধু স্মৃতিতে নয়, এবার ছুঁয়ে থাকবে নতুন প্রজন্মের সিনেমার ঠিকানাতেও। নিউটাউনে তৈরি হতে চলেছে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার। শুক্রবার সকালে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলার চলচ্চিত্র জগতের দুই বর্ষীয়ান তারকা মিঠুন চক্রবর্তী এবং রঞ্জিত মল্লিক। ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। মহানায়ক উত্তমকুমারের স্মৃতিকে ঘিরে এমন উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
রাজ্য সরকারের তরফে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিল্ম সেন্টারটি সাজানো হবে তিনটি প্রধান অংশে। প্রথম অংশে থাকবে ৭৫০ আসনের দু’টি সিনেমাহল, প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট এবং কার পার্কিং। দ্বিতীয় অংশে তৈরি হবে ১০০০ আসনের একটি বড় অডিটোরিয়াম এবং ওপেন এয়ার থিয়েটার। অর্থাৎ সিনেমা প্রদর্শনের পাশাপাশি নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বড় মাপের নানা আয়োজনও করা যাবে এই পরিকাঠামোয়।
তৃতীয় অংশটিই এই প্রকল্পকে আরও আলাদা করে তুলবে। আধুনিক বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেখানে থাকবে অ্যানিমেশন, ভিজুয়াল এফেক্ট, গেমিং, কমিকস এবং এক্সটার্নাল রিয়ালিটির কাজের পরিকাঠামো। পাশাপাশি সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশনের জন্য তৈরি হবে ল্যাবরেটরি ও স্টুডিও। অর্থাৎ শুধু ছবি দেখার জায়গা নয়, ছবি তৈরির নানা পর্বকেও একই ছাদের নীচে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত জায়গায় মাটি পরীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে তৈরি হচ্ছে ডিটেলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর। বর্ষার মরশুম শেষ হলেই নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, উত্তমকুমারকে নিয়ে এমন কিছু তৈরি করতে হবে, যার আবেদন শুধু আজকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না-আগামী প্রজন্মও যাতে এই উদ্যোগকে মনে রাখে। এদিন জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন শুভেন্দু অধিকারী। উত্তমকুমারকে ঘিরে আয়োজিত সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানগুলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মহানায়ককে ঘিরে ভালোবাসার কোনও বিভাজন নেই। তাঁর কথায়, শুধু কোনও একটি দিনের আয়োজন নয়, এমন কিছু সৃষ্টি করাই লক্ষ্য, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা বিনোদন জগতের সকলকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিঠুন চক্রবর্তীকে আগামী দিনে ‘কালচারাল অ্যাডভাইজার’ বা সাংস্কৃতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। যদিও এই দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর আগে বক্তব্য রাখেন মিঠুন চক্রবর্তী। ‘মহাগুরু’র সাফ কথা, মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন, তা করে দেখান-এ নিয়ে তিনি নিশ্চিত। উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরেই নানা অনুষ্ঠানে মেতেছে বাংলা। সেই আবহেই নিউটাউনে তাঁর নামে এই ফিল্ম সেন্টারের শিলান্যাস যেন স্মৃতির সঙ্গে ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন।

