কী ছিল ঋতুপর্ণার শাড়িতে? আঁচল টেনে খুঁটিয়ে দেখলেন দেব! ফিরল উত্তম-সুচিত্রার সেই প্রেম
কোনও কোনও ছবি শুধু পর্দায় থাকে না। সময় পেরিয়ে, প্রজন্ম বদলে গিয়েও তারা থেকে যায় মানুষের মনে।কখনও গানের সুরে, কখনও কোনও সংলাপে, আবার কখনও নিঃশব্দে উড়ে যাওয়া এক টুকরো আঁচলে। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের আবহে তেমনই এক নস্ট্যালজিয়ার দরজা খুলে দিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর শাড়ির আঁচলে যেন এক লহমায় ফিরে এল বাংলা সিনেমার সেই সোনালি দিন-উত্তম-সুচিত্রার প্রেম, ‘সপ্তপদী’র বাইক আর সেই অমোঘ পংক্তি, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’।
টালিগঞ্জে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের সূচনায় তারার মেলা বসেছিল। উত্তম কুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন দেব, জিৎ, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক-সহ টলিপাড়ার একাধিক তারকা। কিন্তু সেই তারার ভিড়েও আলাদা করে চোখ আটকে গেল ঋতুপর্ণার সাজে। ঘিয়েরঙা শাড়ি। মেরুন রঙের লম্বাহাতা ব্লাউজ। প্রথম দেখায় সাবেকিয়ানা। একটু মন দিয়ে তাকাতেই বোঝা গেল, এই শাড়ি নিছক পোশাক নয়-এ যেন এক টুকরো বাংলা সিনেমার ইতিহাস। শাড়ির পাড়জুড়ে ফুটে উঠেছে মহানায়কের নানা মুহূর্ত। আর আঁচলে? সেখানে তো অপেক্ষা করছিল সবচেয়ে বড় চমক। ‘সপ্তপদী’র সেই বিখ্যাত বাইকের দৃশ্য-পাশাপাশি উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন। সঙ্গে লেখা, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’। অর্থাৎ, ঋতুপর্ণার শাড়ির আঁচলটা স্রেফ আঁচল ছিল না। একটু যেন পুরনো দিনের সিনেমার পর্দা। যেখানে আজও উত্তম-সুচিত্রা পাশাপাশি, আজও পথ শেষ হয়নি, আজও সেই প্রেমের দৃশ্যটুকু বয়স মানে না।

মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঋতুপর্ণার এই অভিনব ভাবনাই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ক্যামেরার সামনে নিজেই আঁচল মেলে ধরেছেন অভিনেত্রী। সেই মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবহ। দেব, জিৎ, প্রসেনজিৎ- তিন সুপারস্টারেরও নজর আটকে যায় শাড়ির নকশায়। দেবকে দেখা যায় ঋতুর আঁচল টেনে খুঁটিয়ে দেখতে। শাড়িটি দেখে প্রশংসায় মুখর হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। ঋতুপর্ণা নিজেই তাঁর সামনে আঁচলটি মেলে ধরেন। এক মুহূর্তের জন্য যেন বর্তমানের অনুষ্ঠান আর অতীতের বাংলা সিনেমা পাশাপাশি এসে দাঁড়ায়। একদিকে জন্মশতবর্ষের আয়োজন, অন্যদিকে আঁচলে বেঁচে থাকা সেই উত্তম-সুচিত্রা।
ঋতুপর্ণার শাড়ি যেন মনে করিয়ে দিল-উত্তম কুমারকে স্মরণ করতে কখনও কখনও বড় কোনও মঞ্চের প্রয়োজন হয় না। এক টুকরো আঁচলেই ফিরে আসতে পারে একটা গোটা যুগ। আর সেই আঁচল যখন হাওয়ায় উড়ে যায়, মনে হয়-পথটা কি সত্যিই শেষ হয়েছে?

ছবি সৌজন্যে ফেসবুক (Photo courtesy: Facebook)
