রঞ্জিত মল্লিককে ‘সম্মান’ মুখ্যমন্ত্রীর! মহানায়কের জন্মশতবর্ষের মঞ্চে চাঁদের হাট

0



মহানায়কের জন্মশতবর্ষে টালিগঞ্জে দেখা গেল বাংলা ছবির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের এক মঞ্চে এসে দাঁড়ানোর ছবি। উত্তম কুমারের মূর্তিতে মাল্যদান দিয়ে জন্মশতবর্ষের সূচনা হল বৃহস্পতিবার। আর সেই অনুষ্ঠানেই কখনও প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের হাত ধরে মঞ্চে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কখনও আবার অনুষ্ঠান নিয়ে বিদেশ থেকে দেবের মেসেজের প্রসঙ্গ বলে নতুন প্রজন্মের তারকারাও কী ভাবে এই উদযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন তা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল রঞ্জিত মল্লিককে ঘিরে বিশেষ মুহূর্ত। প্রথা অনুযায়ী প্রথম মালা দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু সেই সম্মান নিজের হাতে না রেখে প্রবীণ অভিনেতাকে সামনে এগিয়ে দিলেন তিনি। রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই হল প্রথম মাল্যদান। তাঁকে মঞ্চে তোলার সময়ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা গেল আন্তরিকতার ছবি। কেন এই সিদ্ধান্ত, তার ব্যাখ্যাও নিজেই দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব রঞ্জিত মল্লিককে। প্রথা অনুযায়ী আমাকে বলা হয়েছিল মালা দিতে, কিন্তু আমার মনে হয় ওঁর হাত দিয়েই সূচনা হওয়া উচিত।’
শুধু রঞ্জিত মল্লিক নন, মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন টালিগঞ্জে হাজির ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, গৌতম ঘোষ, রত্না ঘোষাল, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ বহু শিল্পী ও কলাকুশলী। ছিলেন উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যরাও। ফলে মূর্তিতে মাল্যদান থেকে শুরু করে গোটা অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আবেগ, স্মৃতি আর তারকাদের মিলন।
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে শুধু এক দিনের অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বছরভর চলবে নানা কর্মসূচি। চার দিনের বিশেষ আয়োজনের পাশাপাশি থাকবে উত্তম কুমারের ছবির প্রদর্শন, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ প্রদর্শনী। উত্তম মঞ্চকে কেন্দ্র করেও একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। এই আয়োজনের নেপথ্যে তারকাদেরও যে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, সেকথাও অনুষ্ঠানে উঠে আসে। জন্মশতবর্ষের পরিকল্পনা নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মিঠুন চক্রবর্তীও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।বিদেশে থাকার সময়ই দেব মেসেজ করে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। গোটা আয়োজন যেন সুন্দর ভাবে হয়, সেই বার্তাই দিয়েছিলেন তিনি। জিৎও এই উদ্যোগকে উৎসাহ দিয়েছেন। পরিকল্পনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ রায়ও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমার সঙ্গে বিশিষ্ট অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় দেখা করেছে নবান্নের সচিবালয়ে। তাঁর আমার সঙ্গে দেখা করার মূল উদ্দেশ্যই ছিল যে এই বর্ষটা যেন আমরা সুন্দর করে গড়ে ভাল করে করি। তারপর মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী তিনিও আমার সঙ্গে দেখা করেন। বিদেশে ছিল দেব, ওখান থেকে আমাকে মেসেজ করে বলে দাদা ভাল করে কিন্তু করতে হবে। জিৎ ভাইও আমাদের উৎসাহিত করেছিলেন। আরেকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায় তিনিও মিটিংয়ে ছিলেন’।
উত্তম কুমারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সম্প্রতি ‘মন কি বাত’-এ মহানায়কের কথা বলেছেন। জন্মশতবর্ষের সকালে সামাজিক মাধ্যমেও তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে। ফলে টালিগঞ্জের এই অনুষ্ঠান যেন শুধু বাংলা ছবির অন্দরমহলের উদযাপন নয়, উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা যে এখনও কতটা বিস্তৃত, তারও এক বড় প্রমাণ। ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (Image collected from Facebook)

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *