উত্তমের টানে মুছে গেল ‘আমরা-ওরা’, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পায়ে পা মেলাল টলিপাড়া
উত্তমকুমার শুধু পর্দার নায়ক নন, বাঙালির আবেগেরও আর এক নাম। তাই তাঁর জন্মশতবর্ষে যখন টলিপাড়ার মানুষ পথে নামলেন, তখন যেন অদৃশ্যভাবেই সরে গেল যাবতীয় দূরত্ব। কে কোন শিবিরের, কে কার ঘনিষ্ঠ- সেসব হিসেব যেন একেবারেই অর্থহীন। মহানায়কের টানেই ‘আমরা-ওরা’র দেওয়াল পেরিয়ে একই সারিতে হাঁটলেন টলিউডের একাধিক তারকা। স্বতঃস্ফূর্ত সেই ‘ট্রিবিউট ওয়াক’ হয়ে উঠল উত্তমকুমারকে ঘিরে এক বিরল মিলনমেলার ছবি।
নন্দন থেকে উত্তম করিডর -এই হাঁটায় সামিল ছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীময়ী চট্টরাজ, জিৎ, বিশ্বনাথ বসু, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, অঞ্জনা বসু, রুদ্রনীল ঘোষ, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, হরনাথ চক্রবর্তী থেকে শুরু করে বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীর মতো কিংবদন্তিও। একসঙ্গে এতগুলি পরিচিত মুখকে দেখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে-উত্তমকুমারের নামের কাছে সত্যিই যেন সব বিভাজন ফিকে।
আর সেই ঐক্যের কথাই উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে। তাঁর কথায়, উত্তমকুমারই এমন একজন মানুষ, যিনি সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে পারেন। ‘আমরা-ওরা’র রাজনীতি বা বিভাজনের বাইরে গিয়ে বাংলা ছবির জগৎকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর কথায় ছিল, টলিউডকে বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দিতে হবে, আর তার জন্য প্রয়োজন সকলের একসঙ্গে এগিয়ে আসা।
এই আবহেই আরও বড় বার্তা দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা ছবির শিল্পকে নতুন করে চাঙ্গা করতে কলকাতায় শুটিংয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ভর্তুকির প্রস্তাবের কথা জানান তিনি। ইম্পার উদ্যোগের সঙ্গে এই ভাবনাকে যুক্ত করে মিঠুনের বক্তব্য, বাংলা ছবির কাজ আরও বাড়াতে এবং কলকাতাকে শুটিংয়ের অন্যতম বড় কেন্দ্র করে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁর এই প্রস্তাব যেন স্মৃতির সঙ্গে ভবিষ্যতেরও সেতুবন্ধন তৈরি করল।
কারও পরনে ‘নায়ক’-এর ছবি আঁকা টি শার্ট, কারও সাজে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের শাড়ির সাজেও ছিল শ্রদ্ধা আর আবেগের মিশেল। কিন্তু সেদিন পোশাকের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল একসঙ্গে পথ চলার ছবিটা। উত্তমকুমার চলে গিয়েছেন বহু বছর আগে। তবু তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই আজও বাঙালির চোখে, মনে ফিরে আসে এক টুকরো সোনালি সময়। জন্মশতবর্ষের এই আয়োজন যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল-মহানায়ক পর্দা থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার তাঁর ক্ষমতা এখনও অমলিন। তাঁর নামেই যদি আজও ‘আমরা’ আর ‘ওরা’ একসঙ্গে হাঁটে, তবে বাঙালির কাছে উত্তমকুমারের আসল নায়ক হয়ে থাকার গল্পটা বোধহয় এখানেই।
