এক বছর পরও ভোলেনি অসম, জুবিন গর্গকে ঘিরে তিন দিনের আবেগের আয়োজন
সময় পেরিয়েছে এক বছর। কিন্তু জুবিন গর্গকে ভুলতে পারেনি অসম। তাঁর কণ্ঠ থেমেছে, নতুন কোনও গানও আর আসবে না-তবু অসমের আকাশ-বাতাসে যেন আজও মিশে রয়েছে তাঁর গানের সুর। প্রিয় শিল্পীর প্রয়াণবার্ষিকী তাই শুধুমাত্র স্মরণ করার দিন নয়, অসমবাসীর কাছে যেন পুরনো আবেগকে নতুন করে ছুঁয়ে দেখার মুহূর্ত। দেখতে দেখতে বছর ঘুরতে চলল। সেই আবেগেই আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ‘জুবিন ক্ষেত্র’-এ শুরু হচ্ছে তিন দিনের বিশেষ আয়োজন।
গায়কের স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গর্গের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অসমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জুবিনের অনুরাগীদের যোগ দেওয়ার কথা। ১৭ সেপ্টেম্বর পালন করা হবে ‘জুবিন দিবস’। প্রথম দিন থেকেই প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে প্রয়াত শিল্পীকে। তিন দিনের আয়োজনে তাঁর দীর্ঘ শিল্পীজীবন, সৃষ্টিকর্ম এবং অসমের সংস্কৃতিতে তাঁর অবদানকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষ দিনে হবে ভগবত নামকীর্তন। জুবিনের আত্মার শান্তি কামনায় এই বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
জুবিনের সঙ্গে অসমের সম্পর্ক শুধু একজন শিল্পী ও তাঁর শ্রোতাদের সম্পর্ক নয়, তাঁর গান যেন কথা বলত অসমের মাটি, নদী, মানুষ আর আবেগ। গায়ক হওয়ার পাশাপাশি সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক, অভিনেতা ও চলচ্চিত্রনির্মাতা হিসেবেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে অসমীয়া গান পৌঁছেছিল নতুন প্রজন্মের কাছেও। দেশজুড়ে তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় ২০০৬ সালে ‘গ্যাংস্টার’ ছবির ‘ইয়া আলি’ গানটির মাধ্যমে। কিন্তু জাতীয় খ্যাতি তাঁকে নিজের শিকড় থেকে দূরে সরাতে পারেনি। বরং দেশের নানা প্রান্তে পরিচিতি পাওয়ার পরও অসমের ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগই বারবার ফিরে এসেছে তাঁর সৃষ্টিতে। তাই এক বছর পরও জুবিনকে ঘিরে অসমবাসীর অনুভূতিতে যেন বিচ্ছেদের চেয়ে স্মৃতিই বেশি। তিন দিনের সেই আয়োজনেও হয়তো বারবার শোনা যাবে তাঁর গান। আর প্রতিটি সুরের ফাঁকে ফিরে আসবে সেই মানুষটির কথা-যিনি নেই, অথচ তাঁর গান হয়ে আছেন অসমের মানুষের হৃদয়ে।
ছবি সৌজন্যে জি প্লাস ও এক্স হ্যান্ডল (Photos courtesy of GPlus and X handle)
