নতুন ব্র্যান্ড! ৫০০ কোটির বরাদ্দ! বাংলার পর্যটন এ বার ‘দেখব নতুন রূপে, দেখব নতুন চোখে!’
একদিকে তুষারঢাকা পাহাড়, অন্যদিকে নোনা জলের সুন্দরবন। কোথাও চা-বাগানের সবুজ, কোথাও সমুদ্রের ঢেউ। আবার গঙ্গার বুক চিরে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলার হাতছানি। এত বৈচিত্র্য একসঙ্গে থাকা সত্ত্বেও পর্যটনের মানচিত্রে সেই বাংলাকে কতটা তুলে ধরা গিয়েছে? এ বার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন নতুন করে সাজছে রাজ্যের পর্যটন ভাবনা। শুধু কয়েকটি দর্শনীয় জায়গার প্রচার নয়, বাংলাকে একটা সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার।
শুক্রবার কলকাতার ধনধান্যে অডিটোরিয়ামে পর্যটন দফতরের নতুন লোগো ও ব্র্যান্ডিংয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সামনে এসেছে নতুন ট্যাগলাইন- ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল-হোয়্যার ইন্ডিয়া ফিলস ডিফারেন্ট’। অর্থাৎ, এমন এক ভারত, যাকে বাংলায় এসে অন্যরকম ভাবে অনুভব করা যায়। আর এই ভাবনাকেই সামনে রেখে পর্যটনের নতুন যাত্রা শুরু করতে চাইছে রাজ্য। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কথাতেও সেই আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, বাংলার আসল শক্তি শুধু পাহাড়, সমুদ্র কিংবা জঙ্গল নয়-এই সবকিছুর সঙ্গে মিশে থাকা মানুষের উষ্ণতা ও আতিথেয়তাও। তাই পর্যটককে শুধু ‘কোথায় যাবেন’-এর তালিকা না দিয়ে ‘কী অনুভব করবেন’, সেই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরতে চায় সরকার। তাঁর কথায়, নতুন ব্র্যান্ডের লক্ষ্য হল বাংলার শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকেও আন্তর্জাতিক মানের একটি পরিচয় তৈরি করা। শুধু লোগো বদলেই অবশ্য থামছে না পরিকল্পনা। পর্যটন খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সরকারি ট্যুরিস্ট লজ ও গেস্ট হাউসগুলির আধুনিকীকরণ, পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং লোকবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে হারাতে থাকা পর্যটনের জায়গা ফের দখল করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য।
পরিকল্পনার তালিকায় রয়েছে গঙ্গাকেন্দ্রিক পর্যটনও। কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি বাবুঘাট থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে জলপথে ভ্রমণের ব্যবস্থা আরও আকর্ষণীয় করার ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের থাকার জন্য আধুনিক বোট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ, নদীকে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে সরকার। সমুদ্রসৈকতেও আসছে নতুন ভাবনা। মন্দারমণিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।আবার বন্যপ্রাণ সংরক্ষণেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলার সংস্কৃতিকেও এই নতুন পর্যটন ব্র্যান্ডের অন্যতম মুখ করতে চাইছে সরকার। পর্যটন দফতরের কর্মী-আধিকারিকদের বছরে ১২টি বিশেষ দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অফিসে আসার পরিকল্পনাও সেই ভাবনারই অংশ। অর্থাৎ পর্যটন এখন শুধু জায়গা দেখানোর বিষয় নয়, বাংলার জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পর্যটকের যোগ তৈরি করারও চেষ্টা।
ছবি সৌজন্যে চিফ মিনিস্টার অফিস ওয়েস্ট বেঙ্গল ফেসবুক (Photo courtesy: Chief Minister Office West Bengal Facebook)
