কলকাতায় পা রেখেই কাফুর চমক! মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, বঞ্চিত শিশুদের হাতে তুলে দিলেন কী?
কলকাতায় ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু, আর তাতেই ৩ অক্টোবরের ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের আগে শহরের ফুটবল-উন্মাদনায় যেন নতুন ঝড়। সোমবার কলকাতায় পা রেখেই একের পর এক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি। শিল্প ও ফুটবল বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা থেকে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, আবার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে ফুটবল তুলে দেওয়া-দিনভর নানা ভূমিকায় দেখা গেল কাফুকে।
সোমবার বিএনসিসিআই-এর উদ্যোগে ভারতীয় ফুটবলের আগামী দিনের রোডম্যাপ এবং ফুটবল বাণিজ্য নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা চক্রে যোগ দেন কাফু। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ব্রাজিলের প্রাক্তন ফুটবলার ব্যারেটো। অনুষ্ঠানে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ এবং ফুটবলকে ঘিরে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর বেলা ২টো নাগাদ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কাফু। সঙ্গে ছিলেন শতদ্রু দত্ত ও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। পুষ্পস্তবক দিয়ে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তিকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। কাফুর পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া হয় ব্রাজিলের জার্সি ও সই করা ফুটবল। পাল্টা উপহার হিসেবে কাফুর হাতে ফ্রেমে বাঁধানো স্বামী বিবেকানন্দের ছবি তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। দু’জনের মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
তবে নবান্নের বৈঠকের বাইরেও এ দিন কাফুর উপস্থিতি ছুঁয়ে গেল অন্য এক আবেগ। দত্তাবাদের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের হাতে ফুটবল তুলে দেন তিনি। প্রিয় ফুটবল তারকাকে সামনে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে খুদেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সমাজ মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় কাফুকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, স্বপ্নপূরণের জন্য কতটা পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলার প্রয়োজন, কাফুর জীবন তার বড় উদাহরণ। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁকে আইকন হিসেবেও উল্লেখ করেন অগ্নিমিত্রা।
কলকাতায় আসার আগে দার্জিলিং সফরেও ফুটবলকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কাফু। পাহাড়ে ‘সিদ্রা হিলস’ স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসর্টের উদ্যোগের পাশাপাশি আত্মপ্রকাশ করে ‘দার্জিলিং ওয়ারিয়র্স এফসি’ এবং ‘নর্থ বেঙ্গল ফাইটার্স এফসি’। এই অনুষ্ঠানে ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। পাহাড়ের ফুটবল পরিকাঠামো উন্নত করা এবং উত্তরবঙ্গের প্রতিভাবান ফুটবলারদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
১৯৯৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন কাফু। ২০০৬ পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই কিংবদন্তি ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য। পরপর তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার নজিরও রয়েছে তাঁর। ফলে ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিল দলের ম্যাচের আগে কাফুর সফর যে শহরের ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই যায়।

ছবি সৌজন্যে চিফ মিনিস্টার অফিস ওয়েস্ট বেঙ্গল ফেসবুক
Photo courtesy: Chief Minister Office West Bengal (Facebook)
