পচা-বাসি খাবার! পুজোর আগে ৪০ রেস্তোরাঁ সাসপেন্ড! তালিকায় আপনার প্রিয়টাও নেই তো?
দুর্গাপুজো আসতে আর বেশি দেরি নেই। উৎসবের বাজারে কেনাকাটার পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিবার নিয়ে বাইরে খেতে যাওয়ার সেই আনন্দের মধ্যেই এ বার সামনে এল অস্বস্তিকর ছবি। পুজোর আগেই শহরের একের পর এক রেস্তোরাঁয় খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে ধরা পড়েছে নানা অনিয়ম। তালিকায় রয়েছে কলকাতার বেশ কিছু নামী-দামি খাবারের ঠিকানাও।

১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর, এক সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকেরা শহরজুড়ে ৫৯২টি জায়গায় অভিযান চালান। রেস্তোরাঁ থেকে খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান-কোনও জায়গাই বাদ যায়নি। অভিযানে নিম্নমানের ও বাসি খাবারের পাশাপাশি পচা মাছ-মাংস, নিম্নমানের মশলা এবং স্বাস্থ্যকর নয় এমন খাদ্যসামগ্রীর সন্ধান মেলে। সব মিলিয়ে ১,২২৪ কেজি খাবার বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬১টি নমুনাও। সবচেয়ে বেশি চর্চা তৈরি হয়েছে নামী রেস্তোরাঁগুলির নাম সামনে আসায়। পুরসভার সাসপেনশন নোটিশ পাওয়া ৪০টি সংস্থার তালিকায় রয়েছে নাগেরবাজারের আরসালান, বাইপাসের ধারের সিমলা বিরিয়ানি, রিপন স্ট্রিটের করিমস এর মতো পরিচিত নাম। রয়েছে মিষ্টিমুখ, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিকের মতো নামী মিষ্টির দোকানও।

রয়েছে ‘জগবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’, ‘শ্রীহরি ফুড’,‘গিরীশচন্দ্র দে’, ‘মাতৃ মিষ্টান্নভাণ্ডার’, ‘মিঠাই ভাণ্ডার’। যে সব জায়গায় মানুষ নিশ্চিন্তে খাবার অর্ডার করেন, সেই পরিচিত ঠিকানাগুলিতেও অনিয়মের হদিস মেলায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে-দাম দিয়ে খাবার কিনলেই কি তার গুণমান নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়? পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, আপাতত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুরসভার স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার তৈরির বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করে আবেদন করলে পরবর্তী সময়ে পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি যাচাই করা হবে। নিয়ম মেনে চলার প্রমাণ মিললে ফের ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
পুজোর মরসুমে শহরের রেস্তোরাঁয় ভিড় বাড়বে। প্রিয়জনদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার মুহূর্ত আরও বাড়বে। তার ঠিক আগেই এই অভিযান যেন ক্রেতাদের সামনে একটাই প্রশ্ন রেখে গেল- রেস্তোরাঁর নাম যত বড়ই হোক, রান্নাঘরের ভিতরটা কি সত্যিই ততটাই নিরাপদ?

