চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান! ডার্বি জিতে শিল্ডের মঞ্চে ১৯১১-এর ছোঁয়া
ডার্বির উত্তাপ, বৃষ্টির বাধা- কিছুই থামাতে পারল না মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে। যুবভারতীর ভেজা মাঠে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ডের ২২তম খেতাব ঘরে তুলল সবুজ মেরুন। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিল প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের একটি নিখুঁত আক্রমণ। সাহাল আব্দুল সামাদের পাস থেকে ৪৫ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে গোল করে গেলেন সমীর জেলকোভিচ। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য মরিয়া চেষ্টা করেও মোহনবাগানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।
ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে ছিল লাল হলুদই। সেমিফাইনালে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে এসেছিল তারা। বিপরীতে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালের টিকিট পেয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু ফাইনালে আগের ম্যাচের সেই আক্রমণাত্মক ইস্টবেঙ্গলকে দেখা গেল না। বরং ম্যাচ যত এগিয়েছে, মাঝমাঠের দখল ততই নিজেদের হাতে নিয়েছে মোহনবাগান। শুরুতে অবশ্য সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। দানি রামিরেজের পাস পেয়ে এডমুন্ড লালরিনডিকার শট বিপদ তৈরি করেছিল। তবে প্রস্তুত ছিলেন বিশাল কাইথ। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়। ছাংতে ও সাহালকে সামনে রেখে আক্রমণের গতি বাড়াতে থাকে মোহনবাগান। ১৯ মিনিটে ছাংতের দৌড় ও বক্সে ঢোকার চেষ্টায় চাপে পড়ে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ। ৩৬ ও ৩৭ মিনিটে ছাংতে এবং সাহালের শটও সামলাতে হয় লাচেনপাকে। তবে বিরতির আগে আর শেষরক্ষা হয়নি। ৪৫ মিনিটে সাহালের নিখুঁত পাস পেয়ে সুযোগ কাজে লাগান জেলকোভিচ। তাঁর বাঁ পায়ের শট লাচেনপাকে পরাস্ত করে জালে জড়াতেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার জন্য একাধিক পরিবর্তন করেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। লুকাস, ডেভিড ও বিষ্ণুদের মাঠে নামানো হলেও আক্রমণে ধার বাড়েনি। অন্য দিকে প্যানাগিওটিস দিলেমপেরিসের দল নিজেদের রক্ষণ আরও শক্ত করে ফেলে। শেষ দিকে লাল-হলুদ চাপ বাড়ালেও প্রতিটি আক্রমণ সামলে যায় সবুজ-মেরুন রক্ষণ। প্রয়োজনের সময়ে ফের ভরসা দেন কাইথ।
এই জয় ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের যন্ত্রণাও কিছুটা মুছে দিল মোহনবাগানের। একই মরসুমে দুই দলের তিন সাক্ষাতে এবার ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সবুজ-মেরুন। আর শিল্ডের ইতিহাসে যোগ হল আরও একটি গর্বের অধ্যায়। ১৯১১ সালে খালি পায়ে শিল্ড জয়ের যে ঐতিহ্য ভারতীয় ফুটবলে মোহনবাগানের নামকে অমর করেছিল, ২০২৬-এ সেই ট্রফিই আবার উঠল সবুজ-মেরুনের হাতে। সময় বদলেছে, ফুটবল বদলেছে- বদলায়নি শিল্ডে মোহনবাগানের গৌরবের রং। ছবি সৌজন্যে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস (Photo courtesy: Mohun Bagan Super Giants)

