টলিউডে শোকের ছায়া, রহস্যমৃত্যু ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ পরিচালক অনীক দত্তের
টলিপাড়ার ফের শোকের ছায়া।বুধবার দুপুরে আচমকাই প্রকাশ্যে আসে মর্মান্তিক খবর।প্রয়াত ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর পরিচালক অনীক দত্ত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৬ বছর।গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার একটি বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়,শ্রীলেখা মিত্র, প্রতীম ডি গুপ্ত, জয়জিৎ বন্দোপাধ্যায় সহ অনেকে।
ঘটনাকে ঘিরে রয়েছে একাধিক প্রশ্ন। ঠিক কীভাবে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন পরিচালক? তা এখনও স্পষ্ট নয়। সত্যিই দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ? সবদিক খতিয়ে দেখছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, বুধবার দুপুরে তিনি স্ত্রীর ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন। এরপরই বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাসপাতালে পৌঁছোনোর আগেই মৃত্যু হয় পরিচালকের। পরিচালকের মাথা, বুক ও শরীরের একাধিক অংশে ছিল রক্তের ছাপ।
গত ২২ মে জন্মদিন ছিল পরিচালকের।এরই মধ্যে ১৭ মে তিনি ‘মা’ লিখে সোশ্যালমিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন। যদিও তাঁর মা বহু আগেই প্রয়াত হয়েছেন, তবুও হঠাৎ সেই পোস্ট কেন করেছিলেন, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অবসাদে ভুগছিলেন প্রয়াত পরিচালক।তবে তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই উত্তর এখনও অধরাই।
উল্লেখ্য,বাংলা সিনেমায় নিজস্ব ঘরানার জন্য বিশেষ পরিচিতি তৈরি করেছিলেন অনীক দত্ত।বিজ্ঞাপনের দুনিয়া থেকে চলচ্চিত্রে এসে ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ব্যতিক্রমী গল্প বলা, তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ এবং সমাজ পর্যবেক্ষণের অভিনব ভঙ্গি খুব দ্রুতই তাঁকে দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।পরবর্তীতে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং ‘অপরাজিত’-র মতো একাধিক প্রশংসিত ছবি উপহার দেন তিনি। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি ‘অপরাজিত’ দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে আলাদা সাড়া ফেলেছিল। তাঁর ছবিতে বারবার উঠে এসেছে বাঙালির মধ্যবিত্ত মানসিকতা, সমাজবাস্তবতা এবং সূক্ষ্ম রসবোধ। তাঁর পরিচালিত শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’।
