৯৩* রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ইতিহাস পাতিদারের, ৯২ রানে হার টাইটান্সের, ফের ফাইনালে আরসিবি
আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাত টাইটান্সকে ফাইনালে পৌঁছে গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। মঙ্গলবার ধরমশালায় ৯২ রানের বিশাল জয়ে ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে আইপিএল প্লে-অফ ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলগত রানও গড়ে আরসিবি।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় গুজরাত। শুরুতে ভেঙ্কটেশ আইয়ার ১৯ রানের ছোট্ট ঝড় তুলে ফিরলেও বিরাট কোহলি দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

২৫ বলে ৪৩ রান করে তিনি আউট হওয়ার পর ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন পাতিদার। চার নম্বরে নেমে গুজরাতের বোলিং আক্রমণকে কার্যত ধ্বংস করে দেন তিনি। পাঁচটি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসে ছিল নিখুঁত ক্রিকেটীয় শটের প্রদর্শনী। রশিদ খান, কাগিসো রাবাডা, মহম্মদ সিরাজ কিংবা প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ— কারও ওপরই কোনও দয়া দেখাননি আরসিবি অধিনায়ক।

পাতিদারের পাশাপাশি ক্রুণাল পাণ্ডিয়া ৪৩, দেবদত্ত পডিক্কল ৩০ এবং শেষদিকে জিতেশ শর্মার ঝোড়ো ১৫ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ২৫৪ রান তোলে বেঙ্গালুরু। আইপিএল প্লে-অফে এর আগে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল গুজরাতেরই, ২০২৩ সালে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে করা ২৩৩ রান। এদিন সেই রেকর্ড ভেঙে দেয় আরসিবি।

২৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে গুজরাত। শুভমন গিল ২ রান করে ফেরেন। সাই সুদর্শন ১৪ এবং জস বাটলার ২৯ রান করলেও বড় জুটি গড়তে পারেননি কেউই। একসময় ২ উইকেটে ৫১ থেকে মুহূর্তে ৫ উইকেটে ৫১ হয়ে যায় গুজরাতের স্কোর। সেখান থেকেই ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায় টাইটান্সের।

শেষদিকে রাহুল তেওয়াটিয়া ৪৩ বলে ৬৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও তা শুধুই ব্যবধান কমানোর কাজে লাগে। ১৯.৩ ওভারে ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় গুজরাত। আরসিবির হয়ে জেকব ডাফি তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া রাসিখ সালাম, ভুবনেশ্বর কুমার এবং ক্রুণাল পাণ্ডিয়া দুটি করে উইকেট তুলে নেন।
এই জয়ের ফলে সরাসরি ফাইনালে উঠে গেল বিরাট কোহলিদের দল। অন্যদিকে গুজরাতের সামনে এখনও সুযোগ থাকলেও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
