‘৪০ বছর বয়সে অভিনয় করলে তাঁরা বুড়ি হয়ে যায়?’, ঋতুপর্ণাকে নিয়ে ট্রোলিংয়ে জবাব চৈতি ঘোষালের

0




৩ জুলাই মুক্তি পেয়েছে চৈতি ঘোষাল পরিচালিত ছবি ‘নেভার মাইন্ড’।ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকেও।তবে ছবির প্রিমিয়ারের দিন ঋতুপর্ণার পরনে থাকা পোশাকের জন্য এক লহমায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয় অভিনেত্রীকে।ছবির প্রিমিয়ারে অভিনেত্রীর পরনে ছিল একটি বেগুনি রঙের গাউন।নেটিজেনদের দাবি,গাউনটিতে বেশ কিছুটা অস্বস্তিতেই দেখা গিয়েছে তাঁকে।এমনকি,ঋতুপর্ণা নিজেও যেন ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়ার সময় অস্বস্তি বোধ করছিলেন বলেই দাবি একাংশের।সম্প্রতি,নেভার মাইন্ডের হল ভিজিটে এসে সব মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ছবির পরিচালক চৈতি ঘোষাল।তিনি জানিয়েছেন,এই ধরনের ট্রোলিং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সীমা ছাড়িয়ে একজন শিল্পীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণে পরিণত হয়েছে।

সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চৈতি ঘোষাল বলেন,“যাঁরা সমালোচনা করলেন,তাঁরা কেউই ছবিটা দেখেননি।যাঁরা পোশাক নিয়ে ট্রোল করলেন,তাঁরা ভুলে গেলেন আমরা একটা সভ্য পৃথিবীতে বাস করি।একজন মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো পোশাক পরবেন,এটাই স্বাভাবিক।”তিনি আরও বলেন,ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী,যিনি বহু বছর ধরে দর্শককে বিনোদন দিয়েছেন এবং জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।তাঁর পোশাক কারও পছন্দ না-ও হতে পারে,কিন্তু সেই মত প্রকাশেরও একটি ভদ্র ও শালীন উপায় থাকা উচিত।চৈতির কথায়,“বাড়িতে এসে চার দেওয়ালের মধ্যে কেউ বলতে পারতেন,পোশাকটি তাঁর ভালো লাগেনি। কিন্তু সমাজমাধ্যমে এভাবে একজন শিল্পীকে ট্রোল করা কি ঠিক?”

চৈতি ঘোষাল বিশেষভাবে প্রতিবাদ জানান ৪০ বছরের বেশি বয়সি অভিনেত্রীদের নিয়ে সমাজমাধ্যমে হওয়া কটূক্তির বিরুদ্ধে।তিনি প্রশ্ন তোলেন,“৪০-এর উপরে বয়সের মহিলাদের,বিশেষ করে তাঁরা যদি অভিনয় করেন,তাহলে আপনারা তাঁদের বুড়ি বলে ডাকেন? আপনাদের বাড়ির লোকের সঙ্গেও কি এভাবেই কথা বলেন?কোথায় আমরা তো তা বলি না।আমরা বয়স্কদের সম্মান দিয়ে সম্বোধন করেই ডাকি।”তাঁর মতে,এই ধরনের মন্তব্য শুধু শিল্পীদের নয়, সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।বাচ্চারা যদি বড়দের কাছ থেকে অন্যদের অপমান করতে শেখে,তাহলে ভবিষ্যতে সেই মানসিকতা আরও বিস্তার লাভ করবে।

এদিন ঋতুপর্ণার পোশাক নিয়ে ট্রোলিংয়ের পাশাপাশি ‘নেভার মাইন্ড’ ছবিকেও নিয়েও মুখ খুলেছেন চৈতি ঘোষাল।তাঁর অভিযোগ,ছবিটি না দেখেই অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।তিনি মনে করেন, কোনও শিল্পকর্ম বা শিল্পীকে বিচার করার আগে কাজটি দেখা এবং তাঁর বিষয়টি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *