ডুরান্ডের ক্ষত ভুলে শিল্ড ফাইনালে ঘুরে দাঁড়াতে চায় মোহনবাগান, ভরসা বিশালকে ঘিরেও!
ডুরান্ড কাপের ফাইনালে হারটা এখনও ভুলতে পারেনি মোহনবাগান। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার সেই ইস্টবেঙ্গল, আবারও ফাইনালের মঞ্চ। তবে অতীতের ফলের দিকে তাকিয়ে নয়, নিজেদের সেরা ফুটবল খেলেই আইএফএ শিল্ড জিততে চান মোহনবাগান কোচ প্যানোস। বৃহস্পতিবারের ডার্বিকে তাই বদলার ম্যাচের চেয়েও নিজেদের মান প্রমাণের লড়াই হিসেবেই দেখছেন গ্রিক কোচ।
সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত ফুটবল খেলতে পারেনি সবুজ মেরুন। ১২০ মিনিটে গোল না আসায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের পরীক্ষায় যেতে হয়। সেখানে বিশাল কাইথের নৈপুণ্য দলকে ফাইনালের টিকিট এনে দেয়। ডার্বির আগে তাই গোলের অভাব এবং আক্রমণভাগের ধার বাড়ানো নিয়েই বেশি ভাবছেন প্যানোস। ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অবশ্য নারাজ তিনি। লাল-হলুদ নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে সাত গোল দিয়ে ফাইনালে উঠেছে, বিপরীতে মোহনবাগানের সেমিফাইনাল ছিল কঠিন। কিন্তু এই তুলনায় কোনও গুরুত্ব দিতে চান না প্যানোস। তাঁর বক্তব্য, প্রতিপক্ষ কী করেছে তার চেয়ে নিজের দল কীভাবে খেলবে সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ডুরান্ড ফাইনালের হারও তাঁর কাছে অতীত। তবে ডার্বির গুরুত্ব অস্বীকার করছেন না। প্যানোসের মতে, মোহনবাগানের সম্মান, সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং সামনে থাকা মরশুম—সব কিছুর জন্যই এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর চাওয়া, ম্যাচ শেষে যেন ফুটবলারদের মনে না হয় তাঁরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি।জাতীয় দলের ব্যস্ততাও চিন্তায় রাখছে মোহনবাগান শিবিরকে। মনবীর সিং, সাহাল আব্দুল সামাদ, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা, অভিষেক টেকচামরা ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলেছেন। এত কম সময়ের মধ্যে তাঁদের ক্লাবের ফাইনালে নামতে হবে। তাই ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে কোচিং স্টাফ। কে কতক্ষণ মাঠে থাকবেন, সেই সিদ্ধান্তও শেষ মুহূর্তে হতে পারে।
পাঞ্জাব ম্যাচে মোহনবাগানের অন্যতম ভরসা ছিলেন বিশাল কাইথ। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভের পর টাইব্রেকারেও নায়ক হন তিনি। আবারও ম্যাচ পেনাল্টিতে গড়ালে বিশালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও প্যানোসও চান না লড়াই অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে পৌঁছক। সামনে আইএসএল এবং অন্যান্য ম্যাচ থাকায় ফুটবলারদের উপর বাড়তি চাপ এড়াতেই ৯০ মিনিটে ফল চান তিনি। সব মিলিয়ে ডুরান্ডের ক্ষত মুছে শিল্ড হাতে তুলে নেওয়াই এখন মোহনবাগানের লক্ষ্য। আর প্যানোসের মন্ত্র একটাই—নাম, অতীত কিংবা পরিসংখ্যান নয়, ডার্বির রাতে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।ছবি সৌজন্যে মোহনবাগান ও আইএফএ (Photos courtesy of Mohun Bagan and IFA)

