মুখ্যমন্ত্রীর কথা রাখতে অনুদানে না বড় পুজোগুলির! উল্টে পুজোর ‘রিটার্ন গিফট’!
দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় যেন বদলে যাচ্ছে অনুদানের চেনা ছবি। সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করার বদলে শহরের একের পর এক বড় পুজো কমিটি জানিয়ে দিচ্ছে-এ বার এক লক্ষ টাকার অনুদান তারা নেবে না। আর সেখানেই শেষ নয়। কয়েকটি নামী পুজো কমিটি তো এক ধাপ এগিয়ে সরকারি সাহায্য না নেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুজোর মরসুমে এই ‘রিটার্ন গিফট’ ঘিরেই এখন চর্চা তুঙ্গে।
সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই বার্তার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার একাধিক নামী পুজো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিতে থাকে। সমাজমাধ্যমে পোস্ট থেকে প্রকাশ্য ঘোষণা-বিভিন্ন ভাবে জানানো হয়, এ বার সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করবে না তারা। এই তালিকায় রয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা, সন্তোষপুর লেকপল্লি, টালা প্রত্যয়, চোরবাগান সর্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সংঘ, হাতিবাগান সর্বজনীন, শ্যাম স্কোয়ার সম্মিলনী, বাবুবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব, ফুলবাগান সর্বজনীন, সিংহী পার্ক সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি, গড়িয়াহাট হিন্দুস্তান পার্ক, চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি, বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনসহ একাধিক কলকাতার ও সল্টলেকের বড় পুজো কমিটি।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ ও সুরুচি সংঘের সিদ্ধান্ত। রাজডাঙা নব উদয় সংঘের চেয়ারপার্সন কেয়া ঘোষ জানিয়েছেন, শুধু অনুদান না নেওয়াই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে আরও এক লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘের পুজো কমিটির সম্পাদক বিধায়ক সৌরভ শিকদারও জানিয়েছেন, তাঁরাও সরকারি অনুদান নেবেন না। উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ‘রিটার্ন গিফট’ তুলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কেন এই সিদ্ধান্ত? বড় পুজোগুলির উদ্যোক্তাদের একাংশের বক্তব্য, তাঁদের নিজস্ব বাজেট রয়েছে। ফলে সরকারের দেওয়া টাকা তাদের না নিয়ে ছোট বাজেটের পুজোগুলিকে সুযোগ করে দেওয়া উচিত। শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোক্তা কনক দেবনাথও জানিয়েছেন, যাদের সত্যিই প্রয়োজন, সরকারি সাহায্য তাদেরই পাওয়া উচিত। একই ভাবনা থেকে সুরুচি সংঘও অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশপ্রিয় পার্ক, বেহালা ফ্রেন্ডস,দমদম পার্ক ভারতচক্র, বাঘাযতীন সর্বজনীন-সহ আরও কয়েকটি পুজো কমিটিও একই পথে হাঁটার কথা জানিয়েছে। উত্তর কলকাতার ভূপেন বোস অ্যাভিনিউয়ের শ্যাম স্কোয়ার সম্মিলনীও সরকারি অনুদান নেবে না। এই পুজোর চেয়ারপার্সন মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। অন্যদিকে, যেসব ছোট পুজোর ক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকার সরকারি সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ, তারা স্থানীয় থানার মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজোয় বিদ্যুতে ছাড়ের ঘোষণাতেও পুজো কমিটিগুলির তরফে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে এ বার কলকাতার পুজোয় অনুদান ঘিরে তৈরি হয়েছে অন্যরকম এক ছবি। সরকারি সাহায্য নিতে অস্বীকার করার পর কেউ কেউ আবার সেই তহবিলেই টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই প্রতিমা, মণ্ডপ আর থিমের পাশাপাশি এ বার পুজোর আলোচনায় উঠে এসেছে ‘রিটার্ন গিফট’-ও। ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (Image collected from Facebook)
