‘সুখকে একটা সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম’, ৬০-এ বিয়ের নেপথ্যের গল্প শোনালেন সুহাসিনী
বয়স শুধুই একটি সংখ্যা।জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুহাসিনী মূলে জীবনের ৬০ বছর বয়সে এসে প্রথমবার বিয়ে করে এই ধারণাই প্রমাণ করেছিলেন যে ভালোবাসার কোনও নির্দিষ্ট বয়স হয় না।‘লগান’, ‘যোধা আকবর’ ও ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর মতো জনপ্রিয় ছবির এই অভিনেত্রী ৬০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন।আর তাঁর প্রেম ও বিয়ের গল্প যেন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও কম রোমাঞ্চকর নয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুহাসিনী জানান,জীবনের এতগুলো বছর তিনি অবিবাহিত ছিলেন কারণ তিনি এমন একজন মানুষ খুঁজছিলেন,যিনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা,স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক সম্মানকে গুরুত্ব দেবেন।ধর্মীয় গোঁড়ামি বা অন্যের জীবনযাপন নিয়ে বিচার করার মানসিকতা যাঁর নেই,এমন একজন সঙ্গীরই খোঁজে ছিলেন তিনি।এই খোঁজের শেষমেশ পরিণতি ঘটে একেবারে আধুনিক যুগের উপায়ে।এক সহ-অভিনেতার পরামর্শে কাজের সুযোগ খোঁজার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন সুহাসিনী।সেখানেই একদিন তাঁর নজরে আসে অতুল গুড়তু নামে এক ব্যক্তির প্রোফাইল। পেশায় পদার্থবিজ্ঞানী অতুল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বৈজ্ঞানিক প্রকল্প ‘লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞানের প্রতি বরাবরই আগ্রহী সুহাসিনী কৌতূহলবশত তাঁকে একটি বার্তা পাঠান—“এলএইচসি-এর অর্থ কী?” সেই এক প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় সূত্রপাত।তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হওয়া একজন মানুষকে সহজে বিশ্বাস করেননি অভিনেত্রী।এমনকি অতুলের দেওয়া তথ্য সত্যি কি না,সেটাও যাচাই করেছিলেন অভিনেত্রী।সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়ার পরই তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ করেন।২০১০ সালের শেষদিকে প্রথম সাক্ষাতের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দু’জনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি অভিনেত্রী সাতপাকে বাঁধা পড়েন।
তবে মেয়ের ৬০ বছর বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্তে প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন সুহাসিনীর মা।পরে তিনি অতুলকে জিজ্ঞেস করেন,এই বয়সে বিয়ে করার কারণ কী? উত্তরে বিজ্ঞানী বলেন,“সুহাসিনী সারাজীবন একা থেকেছেন,চাইলে আরও থাকতে পারবেন।আমিও পারব।কিন্তু আমি জীবনের সুখকে একটা সুযোগ দিতে চাই।”এই উত্তরই মুগ্ধ করেছিল অভিনেত্রীর পরিবারকে।বর্তমানে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। বয়স, সামাজিক ধারণা কিংবা প্রচলিত নিয়ম—কোনও কিছুই তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
শুধু বিয়ের ক্ষেত্রেই নয়,মাতৃত্ব নিয়েও বরাবরই নিজের অবস্থানে স্পষ্ট ছিলেন সুহাসিনী।তিনি জানিয়েছেন, কখনও মা হওয়ার ইচ্ছা তাঁর মধ্যে জাগেনি।নিজের কেরিয়ার, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়েই তিনি সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকেই তিনি সবসময় প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য,অভিনয় জগতেও সুহাসিনী মূলে এক উজ্জ্বল নাম। মাত্র ১৮ বছর বয়সে কিংবদন্তি পরিচালক মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা।পরে তিনি সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন।৬০টিরও বেশি তথ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনা করেছেন তিনি,যার মধ্যে একাধিক কাজ জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে। ১৯৯৯ সালে গুলজারের ‘হু তু তু’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কারও পান সুহাসিনী মূলে।
