ফের অভিনেতার অকালমৃত্যু! ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ না পাওয়ার হতাশা থেকেই হৃদরোগের শিকার, ইঙ্গিত সহকর্মীদের পোস্টে
বাংলা বিনোদন জগৎ এখনও অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তার মধ্যেই ফের দুঃসংবাদ, চলে গেলেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ, তরুণ অভিনেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৩।

সূত্রের খবর, আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হন প্রণব। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। প্রথমদিকে মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট না হলেও, পরে জানা যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। টেলিভিশন দুনিয়ায় মূলত পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিলেন প্রণব। কালার্স বাংলার ‘বসন্ত বিলাস মেসবাড়ি’ থেকে শুরু করে জি বাংলার ‘ভগবান দাস’, একাধিক ধারাবাহিকে তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছিল দর্শকের। কিন্তু এর পরেও কাজ পাচ্ছিলেন না প্রণব। আর তার জেরেই ক্রমশ হতাশা গ্রাস করছিল, দু বেলা দু মুঠো ভাত জুটবে কী ভাবে সেই আশঙ্কায় নাকি ভুগছিলেন জুনিয়র আর্টিস্ট প্রণব ।
হাসিখুশি স্বভাব, পরিশ্রমী মনোভাব এবং সকলের সঙ্গে সহজ মেলামেশার জন্য সহকর্মীদের কাছেও ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তাঁর এই হঠাৎ চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। তাঁদের সমাজমাধ্যম পোস্টেও ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর কাজ না পাওয়ার কথাটা। বেরিয়ে এসেছে টলি ইন্ডাস্ট্রির কঙ্কালসার চেহারার ছবিটা।

অভিনেত্রী অলোকানন্দা গুহ যেমন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাচ্ছি না বোন আমি আর পারছি না, কাজের খুব দরকার। এটাই বলেছিলে তো? আমি নিজের কাজ এ তোমায় ডাকি কারণ অভিনয় তুমি খুব ভালোই করতে দাদা। বলেছিলাম আমার আরো অনেক কাজ করবে তুমি। কিন্তু এটা আমি কি শুনলাম?
সব ছেড়ে চলে গেলে? হয়তো আমি কিছুই করতে পারলাম না..”। পরিচালক পাভেল ঘোষও পুরনো স্মৃতি তুলে ধরে লেখেন, “তোমাকে আর বকার সুযোগ হবে না…”।

অভিনেতা রাহুল দেব বোস লিখেছেন, “প্রণবের মৃত্যুর খবর শুনে ভীষণ কষ্ট পেলাম। একজন দারুণ মানুষ এবং অসাধারণ অভিনেতা ছিল ও। এমন একজন মানুষের সঙ্গে একই পর্দায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে গর্বের। জীবনের চাপ, মানসিক স্ট্রেস শরীরের উপর ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে। এই সময়ে নিজেকে সামলানো জরুরি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে যাওয়ার জন্য সে বড্ড অল্পবয়সী।”
অন্যদিকে অভিনেতা দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের আবেগঘন বার্তা, “এই প্রণব…তোর বাড়ি যাওয়া হলো না তো আমার.. কাজের খুব প্রয়োজন ছিলো তোর জানি..কিছু করতেও পারলাম না। জানিস তো এখানে আমাদের কথায় সব হয় না। ভাই ভালো থাকিস..দেখা হবে”
অভিনেতা রাহুলের শেষকৃত্যের শোকের আবহ কাটতে না কাটতেই এসে পৌঁছায় প্রণবের মৃত্যুর খবর। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুই অভিনেতার অকালপ্রয়াণে ইন্ডাস্ট্রির নিজের লোকেদের ভূমিকা নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন।
