‘চুপ থাকলে বদল আসবে না’, বিবাহিত সম্পর্কেও ‘সম্মতি’র গুরুত্ব নিয়ে সরব দিব্যা দত্ত
সমাজের স্বল্প আলোচিত অথচ জরুরি বাস্তবতাকে সামনে আনছে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী দিব্যা দত্তের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘চিরাইয়া’। এই সিরিজে উঠে এসেছে দম্পতিদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের ‘সম্মতি’-র প্রশ্ন। এই বিষয়ে সমাজে স্বাধীনভাবে আলোচনা হতে দেখা যায় না বললেই চলে। এমনকি এটিকে এখনও আইনিভাবে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্যও করা হয় না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দিব্যা দত্ত স্পষ্টভাবে বলেন, বিবাহিত সম্পর্কের মধ্যে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের অপরাধটি এখনও আমাদের দেশে আইনি ও সামাজিক স্তরে ধোঁয়াশার মধ্যেই রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা সবসময় দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিই, কিন্তু পরিবর্তনটা শুরু হওয়া উচিত আমাদের নিজেদের থেকেই।”
অভিনেত্রীর মতে, সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। ছোটবেলা থেকেই সমাজের নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে বড় হতে হতে অনেক পুরুষ এমন কিছু আচরণকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘অধিকার’ বলে মনে করে। সেই মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ না করা পর্যন্ত পরিবর্তন সম্ভব নয়। ‘চিরাইয়া’-র গল্পও সেই কথাই বলে, পরিবর্তনের শুরুটা পরিবার থেকেই হওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সমাজে ‘অভ্যন্তরীণ পিতৃতন্ত্র’ বা অজান্তেই মনের ভেতরে গেঁথে যাওয়া পুরুষতান্ত্রিক ধারণা আমাদের সকলের মধ্যেই কমবেশি রয়েছে। স্ত্রী-স্বামীর নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে তৈরি এই ধ্যানধারণা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে যে অনেক সময় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই হয় না। এখনও অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের ঘরের কাজ করা অস্বাভাবিক বলেই ধরা হয়, যা এই মানসিকতারই প্রতিফলন।
তবে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেখছেন অভিনেত্রী। বিশেষ করে আধুনিক কর্মজীবী নারীরা এখন নিজেদের শর্তে কেরিয়ার, সংসার ও মাতৃত্ব, সবকিছুই সামলাচ্ছেন। দিব্যার মতে, প্রতিটি সম্পর্ক আলাদা, তাই সমাজের তৈরি নির্দিষ্ট ছাঁচে না ফেলে নিজেদের মতো করে সম্পর্ক গড়ে তোলাই সবচেয়ে জরুরি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কারণেই আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে এমন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে সরব হতে অনুপ্রাণিত করে।
