হবে কর্মসংস্থান! পঞ্চায়েতে সাড়ে ৬ হাজার নিয়োগের বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সাড়ে ৬ হাজার কর্মী নিয়োগের কথা ঘোষণা করলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার একাধিক প্রশাসনিক ও জনস্বার্থমূলক ইস্যুতে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দিলীপ ঘোষ জানান, আগের সরকারের আমলে নিয়োগের প্যানেল তৈরি হলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে বহু পঞ্চায়েতে কর্মীসংকট তীব্র আকার নিয়েছে। তাঁর দাবি, একজন কর্মীকে একাধিক পঞ্চায়েতের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এরমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং মন্ত্রিসভাতেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির টাকা ঠিকমতো কাজে লাগাতে গেলে পর্যাপ্ত কর্মী প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত কর্মীদের বিষয়েও ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। শুধু নিয়োগ নয়, জনজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও এদিন কড়া বার্তা দেন দিলীপ ঘোষ। মাদার ডেয়ারির দুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, বাজারে আনুষঙ্গিক পণ্যের দাম বাড়ায় দুধের দামও বাড়ছে। তবে গুণমানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। অতীতে একাধিক দুগ্ধজাত পণ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই দুধে ভেজাল ও রাসায়নিক মেশানো নিয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান মন্ত্রী।
অরেঞ্জ লাইন মেট্রোর বকেয়া কাজ শুরু হওয়া নিয়েও সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার উন্নয়নমূলক কাজ আটকে দিতে আদালতের দ্বারস্থ হত। ডিএ, চাকরি থেকে মেট্রো, সব ক্ষেত্রেই বাধা তৈরি করা হয়েছিল বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তিলজলায় বেআইনি নির্মাণে বুলডোজার অভিযানের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’। পরিস্থিতিই সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে বলে জানান তিনি। প্রকাশ্যে পশুহত্যা, শব্দদূষণ ও ট্রাফিক আইন নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। লাউড স্পিকার ও ডিজে বক্স নিয়ন্ত্রণে আইন সবার জন্য সমান বলেও স্পষ্ট করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘শব্দদূষণ শুধু অসুবিধা নয়, মানসিক উত্তেজনারও কারণ’। একইসঙ্গে হেলমেট পরা নিয়ে মানুষকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে ‘মা ক্যান্টিন’-এ মাছ-ভাত চালুর ইঙ্গিতও দিয়েছেন মন্ত্রী। আপাতত ৫ টাকার প্রকল্প বজায় রেখেই ভবিষ্যতে খাবারের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
