আইনজীবীর পোশাকে আদালতে মমতা! শুরু বিতর্ক, ব্যাখ্যা চাইল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া

0


বৃহস্পতিবার ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে আচমকাই আইনজীবীর পোশাকে হাজির হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে আদালতে সওয়ালও করেন তিনি। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। তাঁর আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট ও লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দিল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শ্রীমন্ত সেন পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সচিবকে চিঠি দিয়ে দু’দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন, ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় তাঁর লাইসেন্স সক্রিয় ছিল কিনা, তা স্থগিত বা জমা রাখা হয়েছিল কিনা এবং পরে ফের সক্রিয় করা হয়েছে কিনা।


এদিন সকালে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালো কোট ও গাউন পরে তাঁকে আদালতে ঢুকতে দেখে প্রথম থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে জানা যায়, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় তিনি নিজেই সওয়াল করতে এসেছেন। আদালতে মমতা বলেন, ‘আইনজীবী হিসেবে আমি এই মামলা লড়ছি। বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে এটাই আমার প্রথম মামলা।’ সওয়াল করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের পর রাজ্যে হামলা, ভাঙচুর ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মহিলা, শিশু, সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে তফসিলি জাতিভুক্ত পরিবারও আক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আদালতে ১০ জন আক্রান্তের তালিকা জমা দিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, বহু জায়গায় দুষ্কৃতীরা আগুন লাগাচ্ছে, হামলা চালাচ্ছে, অথচ পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।


শুনানি শেষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাইকোর্ট চত্বরে। এজলাস থেকে বেরিয়ে আসতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। আইনজীবী ও উপস্থিত জনতার একাংশ এই স্লোগান দিতে শুরু করলে চত্বর জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয় পুলিশ। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছেও যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই তাঁকে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।


এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমাকে মেরেছে, আমাকে মারা হয়েছে’। ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, ‘আমার অনেক কাজ আছে। এসব নিয়ে উত্তর দেওয়ার সময় নেই।’প্রসঙ্গত, এর আগেও এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়ে নিজের মামলায় সওয়াল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *