উচ্চমাধ্যমিকের কৃতীদের ভিডিও কলে শুভেচ্ছা শুভেন্দুর, নরেন্দ্রপুরের সাফল্যে ‘স্মার্টফোনহীন’ মডেল
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল। এ বার পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ। মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৫৫ জন পরীক্ষার্থী। প্রথম দশের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মোট ৬৪ জন পড়ুয়া।
ফল প্রকাশের পরই প্রথম স্থানাধিকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে প্রথম হওয়া দুই পড়ুয়াকেই ভিডিও কল করে শুভেচ্ছা জানান তিনি। তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জীবনে আরও বড় হয়ে সমাজের জন্য কাজ করতে হবে।
এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন শ্রীরামপুরের চাতরার মেয়ে মেঘা মজুমদার। শ্রীরামপুর রমেশচন্দ্র গার্লস স্কুলের ছাত্রী মেঘা ৪৯২ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন। ভিডিও কলে শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে আশীর্বাদ করে বলেন, ‘ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের আশীর্বাদে জীবনে আরও এগিয়ে যাও, মানুষের মতো মানুষ হও’। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আবেগাপ্লুত মেঘাও জানায়, এত বড় সাফল্য সে কল্পনাও করেনি।উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম হওয়া নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র আদৃত পালকেও ভিডিও কল করে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৪৯৬ নম্বর পেয়ে এ বছর সেরার আসন দখল করেছে আদৃত। ভিডিও কলে মুখ্যমন্ত্রী তাকে বলেন, ‘খুব ভালো রেজাল্ট করেছ। রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছ। আরও বড় হও। রাজ্যের মানুষকে গর্বিত করেছ।’ পাশাপাশি খুব শীঘ্রই কৃতী পড়ুয়াদের ডেকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। আদৃতর বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় শুভেন্দুর মুখে শোনা যায়, ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি, চরৈবেতি’ অর্থাৎ জীবনে থেমে না থেকে আরও এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি এ বারও মেধাতালিকায় দাপট দেখাল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ও পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ। প্রথম দশের ৬৪ জনের মধ্যে ৩৫ জনই এই দুই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। শুধু নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকেই প্রথম দশে রয়েছে ১৮ জন। এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘স্মার্টফোনহীন’ আবাসিক পরিবেশ। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান শিক্ষক স্বামী ইষ্টেশানন্দজি বলেন, কিশোর বয়সে স্মার্টফোন অনেক সময় পড়াশোনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবাসিক পরিবেশে মোবাইলের ব্যবহার না থাকায় ছাত্রদের মনঃসংযোগ ও পড়াশোনার পরিবেশ অনেক বেশি ইতিবাচক থাকে। যদিও প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য লাইব্রেরির সুযোগ ব্যবহার করে পড়ুয়ারা।

তিনি আরও জানান, জয়েন্ট, মেডিক্যাল ও উচ্চ মাধ্যমিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি একসঙ্গে চললেও ছাত্রদের পরিশ্রম ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানেই এই সাফল্য এসেছে।
এ বার পাশের হারের নিরিখে প্রথম হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। সেখানে পাশের হার ৯৪.১৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা ও পুরুলিয়া।
