‘ডক্টর’ নামে পরিচিত!  পিওকে-তে গুলিতে খতম পুলওয়ামা হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হামজা বুরহান

0



২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে পরিচিত হামজা বুরহান ওরফে আরজুমান্দ গুলজার দর খতম। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মুজাফফরাবাদে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় সে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিজের বাড়িতেই হামলার শিকার হয় হামজা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই হামলার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি।
জঙ্গি মহলে ‘ডক্টর’ নামে পরিচিত হামজা দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা ছিল। ২০১৭ সালে উচ্চশিক্ষার অজুহাতে পাকিস্তানে পাড়ি দেয় সে। পরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আল-বদরে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার হয়ে ওঠে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কাশ্মীরি যুবকদের জঙ্গিবাদে প্ররোচিত করার অভিযোগও উঠেছিল হামজার বিরুদ্ধে।
২০২২ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতবিরোধী কার্যকলাপের পাশাপাশি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই সে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার নজরে ছিল।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে সিআরপিএফ কনভয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে কনভয়ের বাসে ধাক্কা মারে জইশ জঙ্গি আদিল আহমেদ দার। সেই হামলায় শহিদ হন ৪০ জন জওয়ান। ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল জইশ-ই-মহম্মদ। হামলার পর ভারতীয় বায়ুসেনা বালাকোটে জঙ্গি ঘাঁটিতে এয়ারস্ট্রাইক চালায়, যা আন্তর্জাতিক স্তরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা ভারতবিরোধী জঙ্গি নেটওয়ার্কের উপর চাপ আরও বাড়ছে। একইসঙ্গে, একের পর এক মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির রহস্যমৃত্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও বাড়ছে কৌতূহল।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *