‘সরকার বদলে গিয়েছে,এবার সমস্যায় পড়তে হবে’, সোহম-কে প্রাণনাশের হুমকি প্রযোজকের, ঠিক কী ঘটেছে?
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। ২০২৬- এর বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় দীর্ঘদিন আড়ালেই ছিলেন অভিনেতা।এবার এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন অভিনেতা। অভিযোগ, প্রায় আট বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ছবির পারিশ্রমিক ঘিরে বর্তমানে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিজেপির নাম টেনে তাঁকে রাজনৈতিক চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান অভিনেতা।
সোহম জানান,ঘটনাটির সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সেই সময় পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তী ও প্রযোজক তরুণ দাসের একটি ছবির জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অভিনেতার কথায়, “প্রথমে পরিচালক এবং প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই আমাকে গল্প শোনান। গল্পটা ভালো লাগায় আমি ছবিটা করতে রাজি হয়ে যাই। এরপর অগ্রিম হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছিল। মূলত ছবির জন্য আমার ডেট ব্লক রাখার কারণেই সেই টাকা দেওয়া হয়।” অভিনেতার দাবি, এরপর ধীরে ধীরে ছবির কাজ থমকে যেতে শুরু করে। প্রযোজনা সংস্থার তরফে আর কোনও স্পষ্ট আপডেট দেওয়া হচ্ছিল না। সোহম বলেন,“আমি বারবার ছবির কাজ কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে জানতে চেয়েছিলাম। তখন আমাকে বলা হয়, কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য কাজ পিছিয়ে গিয়েছে। পরে জানতে পারি পরিচালক ও প্রযোজকের মধ্যে গুরুতর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।”
সোহমের কথায়, পরিচালক নিজেও তাঁকে ফোন করে জানান যে প্রযোজকের আচরণে তিনি অস্বস্তিতে পড়েছেন এবং সেই কারণেই প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিনেতা জানান, “আমি চেয়েছিলাম কোনওভাবে সমস্যাটা মিটে যাক। এমনকী, প্রয়োজনে অন্য পরিচালক নিয়ে ছবিটা শেষ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোনও কাজ এগোয়নি।” অভিনেতার দাবি, এত বছর পর হঠাৎ কয়েকদিন আগে তাঁর আপ্তসহায়ক সুমনের কাছে ফোন আসে। সেখানে নাকি প্রযোজকের তরফে আগের দেওয়া অগ্রিম ফেরত চাওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে সোহম বলেন, “আমি স্পষ্ট জানাই যে ওই অগ্রিমের মধ্যেই আমার পারিশ্রমিক ধরে নিতে পারেন। এত বছর পরে অতিরিক্ত কোনও টাকার দাবি আমার নেই। কারণ ছবিটা তো শেষ পর্যন্ত ওঁরাই করেননি। উল্টে ওই ছবির জন্য আমি অন্য কাজও ছেড়ে দিয়েছিলাম।”
অভিনেতার অভিযোগ, টাকা ফেরত নিয়ে মতবিরোধের পর থেকেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। তাঁর কথায়, “এরপর বিজেপির নাম টেনে আমাকে নানা ধরনের কথা বলা শুরু হয়। হুমকি দেওয়া হয়।সরকার বদলে গিয়েছে, এবার আমাকে সমস্যায় পড়তে হবে।” শুধু তাই নয়, তাঁকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোহমের মতে, “আমাকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। এমনও বলা হয়েছে যে আমাকে রাস্তায় অপদস্থ হতে হবে। এমনকী, গুলি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে আমি শুনেছি।”
এই ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক বা পেশাগত সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য কাউকে ভয় দেখানো বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গোটা বিষয়টিকে জেরে প্রয়োজনে আইনি পথেও হাঁটতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সোহম চক্রবর্তী।
