চোখের জলে ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে বিদায় কিংবদন্তি পেপ, এ বার কোথায় দেখা যাবে এটাই প্রশ্ন
কিছু মানুষ শুধু ট্রফি জেতান না, একটা ক্লাবের আত্মাকেই বদলে দেন। পেপ গুয়ার্দিওলা ম্যাঞ্চেস্টার সিটির জন্য ঠিক তেমনই এক নাম। দশ বছরের অবিশ্বাস্য সাফল্য, অগণিত স্মৃতি আর আধিপত্যের এক যুগ শেষ হয়ে গেল ইতিহাদ স্টেডিয়ামের সেই আবেগভেজা রাতে। অ্যাস্টন ভিলার কাছে ২-১ গোলে হারলেও, ফলাফলের চেয়ে অনেক বড় হয়ে উঠেছিল একজন কিংবদন্তির বিদায়। শেষ বাঁশি বাজার পরও কেউ স্টেডিয়াম ছাড়তে চাইছিল না। গ্যালারিজুড়ে তখন একটাই সুর-‘উইভ গট গুয়ার্দিওলা’। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সমর্থক সবাই যেন বুঝে গিয়েছিল, শুধু একজন কোচ নয়, বিদায় নিচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটির সবচেয়ে সোনালি অধ্যায়।

সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে এদিন অস্বাভাবিক শান্ত দেখাচ্ছিল গুয়ার্দিওলাকে। কিন্তু ৫৯ মিনিটে বের্নার্দো সিলভাকে তুলে নেওয়ার সময় আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি তিনি। চোখের জল মুছতে দেখা যায় সাদা টি-শার্টে। সেই মুহূর্তে যেন ইতিহাদের প্রতিটি মানুষ অনুভব করছিল, এই বিদায় শুধুই পেশাদার সম্পর্কের সমাপ্তি নয়, এ এক পরিবারের বিচ্ছেদ। বিদায়ী ভাষণে গলা ভারী হয়ে আসে স্প্যানিশ কোচের। তিনি বলেন, ‘এই অধ্যায়টা সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে। তোমরা আমাকে এত ভালোবাসো কেন? আমি কখনও ভাবিনি এতটা ভালোবাসা পাব’। কথাগুলো বলতে বলতেই আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় তখন চলছিল তাঁর সেরা মুহূর্তগুলোর ভিডিও আনন্দ, উল্লাস, ট্রফি আর অসংখ্য আলিঙ্গনের ছবি।

২০১৬ সালে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন গুয়ার্দিওলা। সেই সময় ধনী ক্লাব হলেও ইউরোপের শক্তিধর ছিল না সিটি। এক দশকে তিনি বদলে দেন ক্লাবের পরিচয়। তাঁর হাত ধরে আসে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, তিনটি এফএ কাপ, পাঁচটি লিগ কাপসহ মোট ২০টি খেতাব। ২০২৩ সালে ঐতিহাসিক ট্রেবল জিতে সিটিকে পৌঁছে দেন ফুটবলের চূড়ায়। বিদায়ের দিনে তাঁকে সম্মান জানাতে ইতিহাদের এক স্ট্যান্ডের নাম রাখা হয়েছে ‘পেপ গুয়ার্দিওলা স্ট্যান্ড’। স্টেডিয়ামের বাইরে তৈরি হবে তাঁর ভাস্কর্যও। সমর্থকদের হাতে ছিল ব্যানার, ‘তুমি আমাদের ফুটবল বদলে দিয়েছ’।

এবার প্রশ্ন, এরপর কোথায় যাচ্ছেন গুয়ার্দিওলা? বিদায়ী সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি কিছু না বললেও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। ফুটবল মহলের জোর গুঞ্জন, থ্রি লায়ন্সদের ডাগআউটেই হতে পারে তাঁর পরবর্তী ঠিকানা। যদিও গুয়ার্দিওলা নিজে শুধু বলেছেন, ‘জীবনে নতুন অধ্যায় দরকার হয়’। তবে ঠিকানা যেখানেই হোক, ইতিহাদে তাঁর রেখে যাওয়া আলো সহজে নিভবে না। কারণ কিছু কোচ শুধু ম্যাচ জেতেন না, ইতিহাস হয়ে যান। পেপ গুয়ার্দিওলা ঠিক তেমনই এক নাম।
