৯ বছরের ভালোবাসার অধ্যায়ে ইতি, চোখের জলে ইতিহাস হয়ে রইলেন লিভারপুলের ‘ইজিপশিয়ান কিং’

0



অ্যানফিল্ডে এমন কিছু রাত থাকে, যেগুলো শুধুই ফুটবল নয়, স্মৃতি হয়ে যায়। ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের রাতটা তেমনই এক সন্ধে। স্কোরলাইন সেখানে গুরুত্ব হারিয়েছিল অনেক আগেই। কারণ, পুরো স্টেডিয়াম জানত, এটাই মহম্মদ সালাহর শেষ হাঁটা লাল জার্সিতে। শেষবারের মতো অ্যানফিল্ডের সবুজ ঘাসে দৌড়, শেষবার দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়া, শেষবার ‘ইউ নেভার ওয়াক অ্যালোন’-এর আবেগে ডুবে যাওয়া।


২০১৭ সালে রোমা থেকে যখন লিভারপুলে এসেছিলেন সালাহ, তখন কেউ ভাবেনি তিনি শুধু একজন ফুটবলার হয়ে থাকবেন না, একটা যুগের নাম হয়ে উঠবেন। গত ৯ বছরে লিভারপুলের পুনর্জাগরণের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ ছিলেন এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড। গোল, অ্যাসিস্ট, খেতাব সবকিছুর মাঝেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন অ্যানফিল্ডের হৃদস্পন্দন। বিদায়ের ম্যাচেও নিজেকে আলাদা করে রেখে গেলেন সালাহ। গোল না পেলেও কার্টিস জোন্সের গোলে অ্যাসিস্ট করে ভেঙে দিলেন স্টিভেন জেরার্ডের রেকর্ড। ৯৩ অ্যাসিস্ট নিয়ে লিভারপুলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনে এখন তাঁর নাম। যেন শেষ রাতেও ইতিহাসকে ছুঁয়ে থাকতে চাইলেন তিনি।


তবে সংখ্যার থেকেও বেশি মনে থাকবে তাঁর চোখের জল। ম্যাচ শেষে এক সাক্ষাৎকারে সালাহ বলেন, ‘আমার মনে হয় পুরো জীবনে এর চেয়ে বেশি আর কখনও কাঁদিনি।’ কথাগুলো বলতে গিয়েও গলা কেঁপে উঠছিল তাঁর। কারণ এই ক্লাবেই কেটেছে তাঁর যৌবনের সেরা সময়। এখানেই তিনি জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, অসংখ্য স্বপ্নের ট্রফি। ৭৩ মিনিটে যখন তাঁকে তুলে নেন কোচ আর্নে স্লট, তখন দাঁড়িয়ে যায় গোটা অ্যানফিল্ড। হাজারো কণ্ঠে ভেসে আসে তাঁর নামে গান। দু’দলের ফুটবলাররা দেন গার্ড অফ অনার। সেই মুহূর্তে সালাহ আর শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক আবেগের নাম। চোখে জল নিয়েই হাত নেড়ে বিদায় জানান তিনি।


৪৪২ ম্যাচে ২৫৭ গোল, ১২৩ অ্যাসিস্ট আর অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত-পরিসংখ্যান হয়তো এভাবেই সালাহকে মনে রাখবে। কিন্তু অ্যানফিল্ড তাঁকে মনে রাখবে অন্যভাবে। ডান প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শট, গোলের পর দুই হাত মেলে দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষ, আর লাল গ্যালারির উন্মাদনায় হারিয়ে যাওয়া এক কিংবদন্তি হিসেবে। সালাহ চলে গেলেন। কিন্তু অ্যানফিল্ডে তাঁর পায়ের ছাপ মুছে যাওয়ার নয়। কারণ কিছু ফুটবলার ক্লাব ছাড়েন না, ইতিহাস হয়ে যান।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *