‘দ্বিখণ্ডিত’ বিতর্কের প্রায় দুই দশক পর… আবার তিলোত্তমায় তসলিমা!আবার কবিতা শোনাবেন লেখিকা
“আমারও তো দেশ ছিল, আমারও তো শহর ছিল…” তসলিমা নাসরিনের লেখায় বারবার ফিরে এসেছে নির্বাসন, বিচ্ছেদ আর ফিরে পাওয়ার আকুলতা। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রায় ২০ বছর পর আবার কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন প্রখ্যাত কবি ও লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘এইচআরবিএফএফ’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করবেন তসলিমা। নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি এই সফরের কথা জানিয়েছেন।

এই ২০ বছরে কলকাতা অনেক বদলেছে। বদলেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রও। তসলিমার কলকাতা ছাড়ার সময় ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। তারপর টানা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন। এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার। শহরের রাস্তাঘাট, ট্রাম, মেট্রো, প্রশাসন, অনেক কিছুই বদলেছে। কিন্তু এতদিন এই শহরের দরজা আর খোলেনি তসলিমার জন্য। অবশেষে প্রায় দুই দশক পর সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আয়োজকদের দাবি, মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মৌলবাদবিরোধী চেতনার প্রতি সম্মান জানাতেই এই নাগরিক সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধের আয়োজন করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত পোস্টারে তসলিমাকে ‘মৌলবাদবিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ থাকছে তসলিমা নাসরিনের নিজস্ব পরিবেশনা। তিনি তাঁর লেখা কবিতা পাঠ করবেন। সেই কবিতার উপর ভিত্তি করে গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার একটি বিশেষ কোলাজও মঞ্চস্থ হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, গোটা অনুষ্ঠানের ভাবনা, পরিকল্পনা ও সৃজনশীল নকশা স্বয়ং তসলিমা নাসরিনের। বিদেশে এর আগে এমন অনুষ্ঠান হলেও কলকাতায় এই প্রথম তাঁর পরিকল্পনায় এমন একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা হতে চলেছে। আয়োজকদের অন্যতম মোহিত রায় জানিয়েছেন, এটা শুধু একজন লেখকের শহরে ফেরা নয়, মুক্তচিন্তা ও প্রতিবাদের এক আন্তর্জাতিক প্রতীকের প্রত্যাবর্তন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে, যদিও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। সরকারি স্তরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার আশ্বাস মিলেছে বলেই এই সফর সম্ভব হয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসকে কেন্দ্র করে কলকাতায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসনকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। পরে বইটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয় এবং তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে বলা হয়। তারপর থেকে আর ফেরা হয়নি। প্রায় দুই দশক পরে আবারও তিলোত্তমার মাটিতে পা রাখতে চলেছেন বিতর্ক, প্রতিবাদ ও মুক্তচিন্তার অন্যতম মুখ তসলিমা নাসরিন।
