সাবুদি,মিতাদিকে আগলে রাখল ইন্ডাস্ট্রি, দীপঙ্কর দে, নিমাই ঘোষের মতো অগ্রজদের প্রতি অনুজদের ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’
কেউ একসময় নিজের অভিনয়ে দর্শককে কাঁদিয়েছেন, কেউ হাসিয়েছেন,কেউ আবার এমন সব চরিত্র উপহার দিয়েছেন,যা আজও বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশনের ইতিহাসে অমলিন।সময়ের সঙ্গে বদলেছে প্রজন্ম,কিন্তু যাঁদের হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের পথচলা সমৃদ্ধ হয়েছে, তাঁদের অবদান কখনও ফিকে হয় না।সেই সব কিংবদন্তি শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং অফুরন্ত ভালোবাসা জানাতেই এক আবেগময় সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল রবীন্দ্র সদন।রবিবার প্রবীণ শিল্পীদের সম্মান জানাতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরাম’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২৬’।

প্রবীণ শিল্পীদের সম্মান জানানো এবং বাংলা সিনেমার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্যোগ নিয়ে আসছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরাম’।’শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২৬’ সেই ধারাবাহিকতারই এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।এদিন সম্মানিত হন বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের দশজন বর্ষীয়ান শিল্পী।মাধবী মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে লিলি চক্রবর্তী,অলকা গঙ্গোপাধ্যায়,মিতা চট্টোপাধ্যায়,ধীমান চক্রবর্তী,সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়,নিমাই ঘোষ,বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়,দীপঙ্কর দে এবং অলকনন্দা রায় বন্দোপাধ্যায় সকলকে সম্মান জানানো রবিবারের সেই বিশেষ অনুষ্ঠানে।দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁদের অভিনয়,নিষ্ঠা এবং শিল্পচর্চা বাংলা বিনোদন জগতকে সমৃদ্ধ করেছে।তাঁদের প্রত্যেকের কর্মজীবন আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের ও টেলিভিশনের একাধিক শিল্পী।প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়,যিশু সেনগুপ্ত, দেবদূত ঘোষ,আবির চট্টোপাধ্যায়,রুদ্রনীল ঘোষ,শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়,সোহিনী সরকার,ইশা সাহা,গৌরব চক্রবর্তী,ঋদ্ধিমা ঘোষ,অর্জুন চক্রবর্তী,ঋত্বিক চক্রবর্তী, অঙ্কুশ হাজরা,ঐন্দ্রিলা সেন,অপরাজিতা ঘোষ,দ্বিতিপ্রিয়া রায়,স্বস্তিকা দত্ত,তৃণা সাহা,ঊষসী রায়,সুস্মিত মুখোপাধ্যায়,আরিয়ান ভৌমিক, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়,মৈত্রেয়ী মিত্র,সৌমিতৃষা কুণ্ডু,চৈতি ঘোষাল,অমর্ত্য রায়,সুদীপ্তা চক্রবর্তী,শ্যামৌপ্তি মুদলী, রণজয় বিষ্ণু,রুপা গঙ্গোপাধ্যায়,অনামিকা সাহা,বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী-সহ আরও বহু শিল্পী ও কলাকুশলী উপস্থিত থেকে প্রবীণদের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এদিন এক মঞ্চে বাংলা ছবির একাধিক প্রজন্মের এই মিলন দুই প্রজন্মের সম্মানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তবে উপস্থিত তারকাদের ভিড়ের মধ্যেও বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার আর্টিস্টস’ ফোরামের সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদক দেবদূত ঘোষ।শুধু আয়োজকের ভূমিকাতেই নয়,প্রবীণ শিল্পীদের প্রতি তাঁদের আন্তরিকতা এবং শ্রদ্ধাবোধও ছিল স্পষ্ট।সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়,দীপঙ্কর দে এবং বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ অভিনেতারা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছতেই তাঁরা নিজে গাড়ির কাছে গিয়ে তাঁদের নামতে সাহায্য করেন।এরপর হাত ধরে ধীরে ধীরে অনুষ্ঠানস্থলের ভিতরে নিয়ে যান।এরপর একে একে প্রবীণ শিল্পীদের হাতে এই প্রজন্মের বহু শিল্পীরা সম্মাননা তুলে দেন।কোথাও এক শিল্পীর সঙ্গে আরেক শিল্পীর আন্তরিক আলিঙ্গন,কোথাও দীর্ঘদিনের স্মৃতিচারণ।প্রবীণ শিল্পীদের মুখের হাসি সঙ্গে নবীন প্রজন্মের শ্রদ্ধাভরা অভিব্যক্তি সব মিলিয়ে অনুষ্ঠান জুড়ে আবেগের রেশ ছিল স্পষ্ট।
উল্লেখ্য,সত্যজিৎ রায়ের ‘চারুলতা’ ও ‘মহানগর’-এর মতো ছবিতে মাধবী মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য অভিনয় আজও বাঙালির মনে অমলিন।’বসন্ত বিলাপ’,’মৌচাক’ ও ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’-এর মতো ছবিতে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় বাংলা সিনেমার সম্পদ হয়ে রয়েছে।অন্যদিকে,’জন অরণ্য’,’গণশত্রু’,’পরমা’ থেকে শুরু করে একাধিক কালজয়ী ছবিতে দীপঙ্কর দে-র অভিনয় তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।লিলি চক্রবর্তী,বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়,অলকা গঙ্গোপাধ্যায়,মিতা চট্টোপাধ্যায়,ধীমান চক্রবর্তী,নিমাই ঘোষ এবং অলকনন্দা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অসামান্য অবদান রেখে বাংলা সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন।সেই আজীবন অবদানের স্বীকৃতি দিতেই ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২৬’-এর মঞ্চে তাঁদের সম্মান জানিয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরাম’।
